গাজীপুর সিটিতে ভোট

ব্যালটের আগে চলছে কথার বুলেট

  আবুল হাসান, গাজীপুর

১৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ মে ২০১৮, ১৪:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনে ব্যালটের লড়াই হবে আগামী ২৬ জুন। কিন্তু ইতোমধ্যেই কথার বুলেটে প্রতিপক্ষকে বধ করার লড়াই শুরু হয়ে গেছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএনপির প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের এ লড়াইয়ে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে সদ্য অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ইস্যু।

খুলনার মতো নির্বাচন হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন হাসান উদ্দিন সরকার। বলেছেন, ভোট কেন্দ্র রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রতিটি কেন্দ্রে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।

প্রত্যুত্তরে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপির পক্ষ থেকে এসব বলা হচ্ছে। জনগণকে মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত না করতে হাসান সরকারের

প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গাসিক নির্বাচন স্থানীয় হলেও জাতীয় আদল পেয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ নির্বাচনের প্রচারে নামায়। তাদের বক্তব্য, বিবৃতিতেও প্রায়ই উঠে আসছে গাজীপুরের নির্বাচনের কথা। জাহাঙ্গীর আলম ও হাসান উদ্দিন সরকারের লড়াই তাই ছড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত।

বর্তমানে ঘরোয়া বৈঠক, দলীয় সভা, মতবিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাহাঙ্গীর আলম ও হাসান উদ্দিন সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়িতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সভা ও মতবিনিময় করেন হাসান উদ্দিন সরকার। ২০ দলীয় জোটের এই মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক গাজীপুর জেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক এমপি ফজলুল হক মিলন। তার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলমসহ জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

সভা শেষে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ভোটকেন্দ্র রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রতিটিকেন্দ্রে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। আমাদের কর্মীরা জীবন দিয়ে হলেও ব্যালট পেপার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশন গাজীপুরে খুলনা মডেলের নির্বাচন করতে চাইলে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ওই দিনই এ সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। ২৬ জুন ভোটে ডাকাতি হলে আমাদের কর্মীবাহিনী তাদের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবে। গাজীপুর থেকে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। ৪৮ বছর পর দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনও এই গাজীপুর থেকেই সূচিত হবে।

পরে তিনি গাজীপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুকসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি একেক সময় একেক কথা বলে যাচ্ছে। মিথ্যা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত না করতে বিএনপি প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল সকালে ছয়দানা এলাকায় নিজ বাসভবনে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে বৈঠক করেন জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে জনতার মধ্যে কাজ করার। সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে কেউ যেন ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন আওয়ামী লীগের এই মেয়রপ্রার্থী।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আশির দশকে যারা ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের মুখে ভোট ডাকাতির কথা মানায় না। তাদের এ মিথ্যাবাণী গাজীপুরের সুশীল সমাজ কখনো মেনে নেয়নি, মানবেও না। এ ভোট ডাকাতদের গাজীপুরের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিহত করে নৌকাকে বিজয়ী করবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ঐক্যবদ্ধ থাকব, আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে