ভালো নেই মুক্তামণি

অবশ ডান হাত

  মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাতক্ষীরা

১৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ মে ২০১৮, ০৯:২২ | অনলাইন সংস্করণ

‘আগে একটু আধটু চলাফেরা করতে পারতাম। এখন আর পারি না। নতুন করে গলায় টনসিলের ব্যথায় খেতেও কষ্ট হয়। হাতে ব্যান্ডেজ থাকলেও ব্যথা করে, খুলে রাখলেও ব্যথা করে। কিছুই ভালো লাগে না। কয়দিন বাঁচব জানি না।’ এভাবেই আপ্লুত কণ্ঠে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বলে গেল মুক্তামণি। মনের দুঃখ-কষ্টে চোখ ছলছল, তবু জানাতে ভুলেনি

‘ডাক্তার স্যাররা আমার জন্য খু-উ-ব চেষ্টা করেছেন।’

সাতক্ষীরার সেই ছোট্ট মুক্তামণি। ভালো নেই সে। সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে মুক্তামণির এখন দিন কাটছে বিছানায় শুয়ে শুয়ে। দিনে দিনে ছোট হয়ে যাচ্ছে মুক্তামণি, নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে শরীর। ডান হাত এখন অবশ। চামড়া ফেটে ঝরছে কষ। ড্রেসিং করতে দেরি হলেই জন্মাচ্ছে পোকা। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। শরীরের হাড়গুলো যেন বলে দিচ্ছেÑ কী করুণ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার দিন।

মুক্তামণির মা আয়েশা খাতুন বলেন, মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারি না। এখনো হাতে পোকা। অসহ্য যন্ত্রণা হয় তার দেহে। রাতে অল্প ভাত, সকালে অল্প খিচুড়ি খেয়ে সে বেঁচে আছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন মুক্তামণির বিষয়ে আমাদের সময়কে জানান, ফোনে মাঝে মাঝে মুক্তামণির বাবার কাছ থেকে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। বুধবার বিকালেও খোঁজ নিয়েছেন। তার হাতে প্রেসার ব্যান্ডেজ দিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা তারা করেছেন। আসলে মুক্তামণির বর্তমান পরিস্থিতি থেকে খুব বেশি উন্নতির আশা করা যায় না। তার বাবা-মাও বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন। তারপরও আজ বৃহস্পতিবার অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে বসে একটি মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন তারা। যদি তার বাবা-মা রাজি হন, হয়তো আবারও ওকে ঢাকায় আনা হতে পারে বলে জানালেন মুক্তামণির প্রধান চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেন।

বারো বছর বয়সী মুক্তামণির বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়ে ইব্রাহিম গাজী আরও বলেন, সারাদিন বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিন কাটে মুক্তামণির। বাড়িতে নিজেরাই ড্রেসিং করান দুদিন পর পর। তবে ব্যান্ডেজ খুলে রাখলে হাত ফুলে আরও মোটা হয়ে যায়। যন্ত্রণা বেড়ে যায়। দুর্গন্ধ ছড়ায়।

ইব্রাহিম গাজী বলেন, চিকিৎসার কারণে মুক্তামণির শরীরে ৫-৬ বার অস্ত্রপোচার আর ২০-২৫ বার অজ্ঞান করা হয়েছিল। যা বড় মানুষের শরীরে করলেও বাঁচার কথা নয়। তার পরও মুক্তামণি আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছে।

মুক্তামণির বাবা-মা এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দিয়েছেন আল্লাহর ওপর। আল্লাহ চাইলেই মুক্তামণি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করেন তারা।

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামণি মিডিয়ার কল্যাণে দেশব্যাপী পরিচিতি পায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার জন্য মমতা, ভালোবাসা, দোয়া আর শুভ কামনা জানান হাজারো মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আসে শিশু মুক্তামণি। চিকিৎসার দায়িত্বও নেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কোনো চিকিৎসায় সুস্থ হল না মুক্তামণি। দিনে দিনে অবস্থার অবনতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার পর গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এক মাস ছুটি নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে মুক্তামণি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে