সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ছে ভোটের আগে

  আবু আলী

২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ মে ২০১৮, ১৪:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা বাড়ানো হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই বেতনভাতা বাড়ানো হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাজেটে জনতুষ্টির বিষয়টি বিবেচনা করে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগামী বাজেট হচ্ছে এ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বাজেট।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী বাজেটে সরকারের ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের এ বাজেটে চাকরিজীবীদের বেতনভাতা খাতে বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বাজেটেই সরকার ঘোষণা করেছে এখন থেকে আর নতুন বেতন কমিশন হবে না। প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বেতনভাতা বাড়ানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ বেতনভাতা নির্ধারণসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ে কমিটি বেতন সমন্বয়ের একগুচ্ছ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে, যা খুব শিগগির মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে নতুন ২০১৮-১৯ বাজেট ঘোষণার সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সে ঘোষণার পর সংসদ নির্বাচনের আগে তারা মহার্ঘ্যভাতা প্রাপ্য হবেন। এর পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে নতুনভাবে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবেন। অর্থ বিভাগের একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে প্রতিবছর সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ ভাগ হারে ইনক্রিমেন্ট (বেতন বৃদ্ধি) দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি চাকুরেদের বেতন সমন্বয় করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি করে দেওয়া হবে। তারাই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করবেন। এরই আলোকে ২০১৭ সালের ৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ওই কমিটির গঠন করা হয়। ৯ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে (সমন্বয় ও সংস্কার)।

এর আগে সর্বশেষ বেতনভাতা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সারসংক্ষেপে অর্থমন্ত্রী নোটে লিখেছিলেন, এবারের বেতনভাতা নির্ধারণে লক্ষ্য ছিল এখন থেকে বেতনভাতা বাজারের সমতুল্য হবে। এ জন্য ভবিষ্যতে ৫ বছর পর পর আর কমিশন নিয়োগ করতে হবে না। এখন থেকে একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে বেতনভাতার বিষয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি সেল গঠন করা হচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানো হয়েছিল। তার আগে ২০০৯ সালে বাড়ানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত পাঁচ বছর পর বেতনভাতা বাড়ানোর কথা থাকলেও এ বছর নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় আগাম প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিবিএসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বারো মাসে গড়ে খাদ্যসূচকে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে এর পরের মাসগুলোয় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ চালের দাম এ কয়েক মাসে পূর্ববর্তী মাসের চেয়ে প্রকারভেদে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বেড়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে