পাঁচ ঘণ্টায় চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

  আমাদের সময় ডেস্ক

২১ মে ২০১৮, ১৫:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে গাজীপুর, ঝিনাইদহ, নরসিংদী ও রাজশাহীতে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাত ১২টা থেকে আজ সোমবার ভোর ৫টার মধ্যে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র‌্যাব ও পুলিশ দাবি করছে, নিহতদের সবাই মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাজীপুর: গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন পুলিশের দুই সহকারী উপপরিদর্শক। গতকাল রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার নিমতলী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম ওরফে বেসতি রনি। তিনি টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, রেজাউল মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৪-১৫টি মামলা রয়েছে।

টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল টঙ্গীর নিমতলী এলাকায় মাদক উদ্ধারের অভিযানে যায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুঁড়তে থাকে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ রেজাউলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কয়েক পুঁড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। গুলাগুলিতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক ওমর ফারুক ও আনোয়ার হোসেন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের বলছে, নিহত ওই ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। গতকাল রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম ছব্দুল মন্ডল (৪৫)। তিনি নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানান, গতকাল রাত দেড়টার দিকে র‌্যাবের একটি টহল দল নরেন্দ্রপুর তিন রাস্তার মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছিল। এ সময় মাদকের চালান নিয়ে ছব্দুল মন্ডল ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল। সেসময় র‌্যাব সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে মাদক ব্যবসায়ীরা আচমকা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে ছব্দুল মন্ডল ঘটনাস্থলে নিহত হন। বাকিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলিসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘নিহতের লাশ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

নরসিংদী: নরসিংদীর পলাশে উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ঘোড়াশাল খালিশারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব বলছে, নিহত ওই ব্যক্তি নরসিংদীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও নিয়ন্ত্রক ছিলেন।

নিহত ব্যক্তির নাম- ইমান আলী (২৮)। তার বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার নাগরিয়াকান্দি গ্রামে।

র‌্যাব জানায়, এ ঘটনায় তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধের পর ইমান আলীর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. জসিম উদ্দিন জানান, ইমান আলী খালিশারটেক এলাকায় তার বাড়ির পাশে ইয়াবার চালান আদান-প্রদান করছেন-গোপনে এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমান আলীর সঙ্গে তার দুই সহযোগী ছিলেন। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। পরে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় ইমান আলী গুলিবিদ্ধ হন। আর বাকি দুজন পালিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইমান আলীকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাব-১১ এর ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইমান আলীর মা মমতাজ বেগমের একাধিক বিয়ে হওয়ার সুবাধে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল খালিশারটেক এলাকার মিলন মিয়ার (সৎ বাবা) বাড়িতেও তিনি দীর্ঘদিন অবস্থান করেছিলেন। তিনি নাগরিয়াকান্দি ও খালিশারটেক দুই এলাকারই পরিচয় দিয়ে থাকেন।

বর্তমানে তার মা মমতাজ বেগম ওরফে বুড়ি খালিশারটেক এলাকায় থাকেন। তিনিও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আর ইমান আলী তার স্ত্রী পারভীন বেগমকে নিয়ে নাগরিয়াকান্দিতে বসবাস করেন। তার শ্বশুরবাড়িও ওই এলাকায় বলে জানায় র‌্যাব।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, 'ইমান আলী শুধু মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন না, তিনি জেলার মাদক নিয়ন্ত্রক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, বিস্ফোরক, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ডজন মামলা রয়েছে। তার পুরো পরিবারই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।'

রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি, নিহত ওই ব্যক্তি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। গতকাল রোববার রাত ১২টার দিকে উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের ক্ষুদ জামিরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম- লিয়াকত শিকদার (৪৫)। তিনি উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের নামাজগ্রাম গ্রামের জাক্কার মন্ডলের ছেলে ও স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। লিয়াকতের বিরুদ্ধে থানায় আটটি মামলা রয়েছে।

নিহত লিয়াকতের পরিবার জানায়, গতকাল দুপুর থেকে লিয়াকত নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাতে তারা খবর পান লিয়াকত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।

র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব আলম জানান, মাদক নির্মূলে র‌্যাব জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। এ জন্য তাদের বেশ কয়েকটি অপারেশন দল রাজশাহীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সেই মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল রাতে র‌্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী প্রথমে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে একজন নিহত হয়। বাকিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে নিহতের লাশটি উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে