চরিত্র নিয়ে অপবাদেই প্রাণ দিলেন খাদিজা?

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

২৪ মে ২০১৮, ২১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

চরিত্র নিয়ে অপবাদ দেওয়ায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক কলেজ ছাত্রী বিষপান করে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পূর্ব গিমাডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই ছাত্রীর নাম খাদিজা (২৩)। তিনি  টুঙ্গিপাড়া শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিএ(ডিগ্রী) শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

ওই ছাত্রীর পরিবার বলছে এটি আত্মহত্যা নয়, তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিকেলে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ওই কলেজ ছাত্রীর লাশের ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)এনামুল কবীর আমাদের সময়কে জানান, নিহত খাদিজা একই গ্রামের শেখ নাসির ওরফে ঝন্টুর ছেলে ও মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন। ঝন্টুর বাড়িতে খাদিজার যাতায়াত পছন্দ ছিল না তার মা বেবী বেগম ও ননদ নাজমা বেগমের ।

অপর দিকে ঝন্টুর স্ত্রী মিতু বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল না তাদের। এ কারণে তাদের ঘরে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো।

গতকাল বুধবার খাদিজা ঝন্টুর ছেলে মেয়েকে পড়াতে গেলে নাজমা বেগম তাকে আটকান। তিনি খাদিজাকে তার স্বামী মিন্টুর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে অপবাদ দেন। একই সঙ্গে তার চরিত্র নিয়েও নানান কথা শোনান। এ নিয়ে নাজমা ও শ্বাশুড়ি বেবী বেগমের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন মিতু বেগম।

ওসি আরও জানান, খাদিজা ঝন্টুর বোন নাজমাকে এসব কথার ভিত্তি নেই বলেও প্রতিবাদ জানান। এমনকি নাজমার স্বামী মিন্টুকে চেনেন না ও তার মোবাইলে মিন্টু নাম্বার নেই বলেও জানান তিনি। কিন্তু নাজমা 'চরিত্র খারাপ' মন্তব্য করে খাদিজাকে গালিগালাজ ও অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন ইফতারের আগে খাদিজা নিজের বাড়ি ফিরে ক্ষোভে দুঃখে সামান্য পরিমাণ বিষ পান করেন। কিছু সময় পর মিতু বেগম খাদিজাকে নিজের ঘরে নিয়ে ইফতার করান। ইফতার খেয়ে খাদিজা বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর তাকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তির চার ঘণ্টা পর খাদিজা সেখানে মারা যান।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান,খাদিজার মা মাবিয়া বেগম আজ বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ করেছেন। তিনি ওই ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মিতু বেগম খাদিজাকে ইফতারির মধ্যে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ তিনি ও তার দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। প্রথমিক তদন্তে মনে হয়েছে অপবাদ সইতে না পেরে ক্ষোভে ও অপমানে তিনি বিষপান করেছেন। তারপর সে মিতু বেগমের ঘরে ইফতার করেছে। মিতু বেগম ইফতারে বিষ প্রয়োগ করেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে খাদিজার মা মাবিয়া বেগম আমাদের সময়কে জানান, তার মেয়ে মিতুর শ্বাশুড়ি বেবী ও ননদ নাজমার সঙ্গে কথা বলেছে। এটি সহ্য করতে পারেননি মিতু। তাই প্রতিশোধ নিতেই তিনি ইফতারের মধ্যে বিষ দিয়ে তার মেয়েকে হত্যা করেছেন।

এ ঘটনার পর নাসির শেখের স্ত্রী, মা ও বোন 'নিখোঁজ' রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঝন্টুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘মেয়েটি অত্যন্ত ভালো ছিল। আমার ছেলে-মেয়েকে পড়াতো। ঝগড়াঝাটিকে কেন্দ্র করে খাদিজাকে আমার মা ও বোন অপবাদ দিয়ে অপমান করে। এটি সইতে না পেরে খাদিজা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। এখন এলাকার একটি কুচক্রী মহল বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই মহলের প্ররোচনায় খাদিজার মা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আমার স্ত্রী তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেনি।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে