বিআরটিসির বাস এবার খেল আরেক নারীর পা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ মে ২০১৮, ০০:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি
রাজধানীর বনানীতে বিআরটিসি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে পা হারানো গৃহকর্মী রোজিনা আক্তারের মৃত্যুর রেশ না কাটতেই এবার উত্তরায় বিআরটিসি বাসের বেপরোয়া গতির কারণে পা হারিয়েছেন এক নারী। তার নাম স্বস্তি ইসলাম (৫০)।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তরার আব্দুল্লাহপুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বাসটির চালক ও তার সহকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করেছে জনতা। স্বস্তি ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্বস্তি ইসলামের মেয়ের স্বামী প্লাবন জানান, তার শাশুড়ী উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ৩৩ নম্বর সড়কের একটি বাসায় থাকেন। গাজীপুর থেকে বিআরটিসি বাসে করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর আসেন তিনি। বাস থেকে নামার জন্য এক পা ফেলতেই বাসটি হঠাৎ টান মারে। এ সময় স্বস্তি ইসলাম মাটিতে পড়ে যান; কিন্তু বাসটি না থেমে তার শাশুড়ির বাম পায়ের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই স্বস্তির বাম পায়ের হাঁটুর নিচে হাড় ভেঙে এক অংশ ঝুলে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ফুটপাত দোকানদার হাসেমসহ পথচারীরা বিআরটিসি বাসের চালক ও হেলপারকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

চালক-হেলপার আটকের তথ্য সত্য নয় বলে জানিয়ে আব্দুল্লাহপুরে কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্ট তানভীর আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসটিকে (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৪৬৪৩) আটক করে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তবে তার চালক ও হেলপার পালিয়েছে।

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, আহত নারীর বাম পায়ের হাটুর নিচ থেকে পুরো অংশই থেঁতলে গেছে। এছাড়া পায়ের এঙ্গেল জয়েন্ট সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার পা কেটে ফেলা ছাড়া বিকল্প উপায় নেই।

উত্তরা পূর্ব থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিক জানান, দুর্ঘটনার পর আহত নারীকে প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হলেও স্বস্তি ইসলামের স্বজনরা তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। বিআরটিসি বাসের পলাতক চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টায় অভিযান চলছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে