কক্সবাজারে প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারে চাই ‘কক্সবাজার তহবিল’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জুন ২০১৮, ২১:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

অতিরিক্ত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের চাপে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সম্পদ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সুশীল সমাজ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে বিপুল সংখ্যক শরনার্থীর চাপে কক্সবাজারে যে পরিবেশ দূষণ এবং বনাঞ্চলের যে  স্থায়ী ক্ষতিসাধন হচ্ছে তা পূনরুদ্ধার করতে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করতে হবে। এ লক্ষ্যে এখন থেকেই ‘কক্সবাজার তহবিল’ নামে একটি পৃথক পরিবেশ তহবিল গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরামর্শ দেন তারা। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কোস্ট ট্রাস্ট ও কক্সবাজার সিএসও -এনজিও ফোরাম।

এক গবেষণাপত্র তুলে ধরে কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক বরকত উল্লাহ মারুফ বলেন, ‘শুধু প্রতিদিনকার রান্নার জন্য শরনার্থী ক্যাম্পে প্রতিদিন ২,২৫০ টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, যা যোগাড় হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বন থেকে। এভাবে চললে ২০১৯ সালের মধ্যে উখিয়ার সম্পূর্ণ বন উজাড় হয়ে যাবে।’

এছাড়া ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর দৈনন্দিন জীবন যাপনের ফলে উপজেলা দুটির ২১টি খাল ও ছড়া সম্পূর্ণ দূষিত হয়ে গেছে। এছাড়া শরণার্থী ক্যাম্প থেকে প্রতি মাসে ১০০ টন করে বিক্রয়যোগ্য বর্জ আহরণ করা হলেও থেকে যাচ্ছে প্লাস্টিকের প্যাকেট ও পলিথিন, যোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী আতিক রহমান বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়েছি, দেখেছি। বন উজাড় হচ্ছে, দূষণও অনেক। তবে এখনও স্থায়ী ক্ষতিসাধন হয়নি। তবে আমাদের সাবধান হতে হবে। সেখানকার পরিবেশ ও দূষণ ঠেকাতে কাঠামোগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আর সেজন্যে বড় অর্থের বরাদ্দের কথা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এজন্যে পৃথক একটি ‘কক্সবাজার ফান্ড’ গঠন করা প্রয়োজন।’

রোহিঙ্গা ত্রাণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বরাদ্দ তহবিল থেকে কক্সবাজারে সাধিত পরিবেশের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই ‘কক্সবাজার তহবিল’ গঠন করা যেতে পারে বলেও ধারনা দেন কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহি পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে