ব্যাংকিং খাতের লুটপাট নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ জুন ২০১৮, ১৪:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থাপনা ও লুটপাট বন্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ না নেওয়ায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন কয়েকচন সংসদ সদস্য। অনিয়ম প্রতিরোধ না করে উল্টো ব্যাংক মালিকদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করের তারা। আজ রোববার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রথমে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ এ প্রসঙ্গে আলোচনাকরেন। পরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, নুরুল ইসলাম ওমর, পীর ফজলুর রহমান ও স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীসহ বেশ কয়েকজন সাংসদ ব্যাংকিং খাতের অবস্থাপণায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লুটপাটকারীদের ধরে আর্তিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনা দরকার। এই খাতে শৃঙ্খলা আনতে না পারলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। কিছু মানুষ ব্যাংকিং খাতে লুটপাট করবে, এটা হতে পারে না। ঋণ খেলাপি হবে, অর্থ পাচার করবে। এই ঋণ খেলাপি, অর্থ পাচারকারীদের আপনি ধরেন।

তিনি আরও বলেন, কর এর আওতা বাড়াতে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কর অফিস করেন। বিমান চলছে না, বিদেশিরা এসে বিমানে উঠলে মনে করে, যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে। সব জায়গায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা চলছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিমান খাত ভেঙে পড়বে। বিমান ও পর্যটন ব্যবস্থায় ধ্বংস নামবে।

কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে লুটপাট হয়েছে তা ভারতের সমনাথ মন্দিরের লুটপাটের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তখন সমনাথ মন্দির আক্রমণ করে ২০ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করা হয়েছিল। আর বাংলাদেশে ব্যাংক লুটপাটের আগ পর্যন্ত এতো বড় লুটপাটের ঘটনা আর ঘটেনি। সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের আগে এই ব্যাংক মালিকরা, লুটপাটকারী দেশে থাকবে না, তাদের খুঁজেও পাবেন না। তারা বিদেশে পালিয়ে যাবে, ইতিমধ্যে ভিসা লাগিয়ে ফেলেছে।

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে ফিরোজ রশিদ বলেন, ব্যাংক খেলাপি কারা? এটা কি আপনি জানেন না? কেনো তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন না। এরা ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে, এই সমস্ত ভুয়া বাজেট দিয়ে কাজ হবে না। এই বাজেটের মধ্যে কিছু নেই। ধনীকে খুশি, গরিবকে নিঃস্ব আর ব্যাংক ডাকাতদের উৎসাহিত করেছেন এই বাজেটে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ব্যাংকে টাকা রাখলে পাচার হয়ে যায় মানুষ এই আতঙ্কে আছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণ খেলাপিরা টাকা দেশেও রাখে না, বিদেশে পাচার করে। এরা ব্যাংকের কিছু আর রাখবে না। যারা ব্যাংকে লুটপাট করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। লুটপাটকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য কি করা যেতে পারে সেটা অর্থমন্ত্রীকে ভাবতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে এই টাকা আদায়ে কি করা যায় করেন, তাহলে জনগণ আস্থা ফিরে পাবে। প্রশাসনে চলছে অনিয়ম, বেতন বাড়ানো হলো তারপরেও কর্মকর্তারা ঘুষ খায়। তারা বেতন নিলে ঘুষ বন্ধ করতে হবে আর ঘুষ নিলে বেতন বন্ধ করতে হবে। এক সঙ্গে দুটো চলবে না।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়ে সাংসদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, এ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়। যদি এটি সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলেও জানান তিনি।

সড়কের বেহাল অবস্থার সমালোচনা করেন নুরুল ইসলাম ওমর বলেন, সড়কের খারাপ অবস্থার কথা বলার পরে সেতুমন্ত্রী বলেছেন, নতুন কিছু পেতে গেলে তো প্রসব বেদনা সহ্য করতে হবে। আসলে প্রসব বেদনার ও তো একটা টাইম লিমিটেশন আছে। এমন বেদনা অব্যাহত থাকলে তো প্রসূতী মারা যাবে। ঈদযাত্র নির্ভিঘœ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংসদ অধিবেশন সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
ashomoy-todays_most_viewed_news