উলঙ্গ হয়ে পালানো সেই চালক এখনো অধরা (ভিডিও)

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জুন ২০১৮, ২০:০৩ | আপডেট : ১১ জুন ২০১৮, ২০:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এক তরুণীকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামি ওই গাড়ির চালক ফারুককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে আজ সোমবার মামলার অপর আসামি গাড়ির মালিক মাহমুদুল হক রনিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার দিবাগত রাতে শেরে বাংলা নগরে গাড়ি থেকে নামিয়ে গণপিটুনি দেওয়া হয় চালক ফারুক ও মাহমুদুল হক রনিকে। গণপিটুনির একপর্যায়ে ফারুক উলঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান।    

আজ সন্ধ্যায় শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিজি বিশ্বাস আমাদের সময়কে বলেন, ‘মামলার আসামি মাহমুদুল হক রনিকে আজ আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার পলাতক আসামি গাড়ির চালক ফারুককে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শেরে বাংলা নগর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রনি হক ও তার গাড়িচালক ফারুককে আসামি করা হয়েছে। 

ভিডিও ভাইরাল
গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাফি আহমেদ নামের একজন রনি হক ও তার গাড়িচালক ফারুককে আটক করে মারধরের ভিডিও এবং ঘটনার বিবরণসহ দুটি ভিডিওচিত্র ফেসবুকে পোস্ট করেন। তাতে মারধরের চোটে কাপড় ছিঁড়ে গেলে চালককে নগ্ন অবস্থায় দৌঁড়ে পালাতে দেখা যায়। পরে অবশ্য সেই ভিডিও দুটি মুছে ফেলেন রাফি। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে ধর্ষণচেষ্টার শিকার তরুণীকে দেখা যায়। ২০-২২ বছরের চশমা পরা তরুণীর চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক। তিনি ওড়না দিয়ে চোখের পানি মুছছিলেন। এই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।   

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাফি আহমেদ জানান, শনিবার মধ্যরাতে অফিস থেকে গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। কলেজগেট সিগন্যালে জ্যামে আটকা পরেন তিনি। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো- গ ২৯-৫৪১৪) ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন রনি। 

রাফি প্রথমে মনে করেছিলেন, গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা চলছে। পরে রাফিসহ সেখানে থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে রনির প্রাইভেটকারটি আটকে ফেলেন। এ সময় তারা দেখতে পান গাড়ির পেছনের আসনে রনি এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে জনতা গাড়ির ভেতর থেকে আক্রান্ত তরুণী, মদ্যপ রনি ও তার গাড়িচালককে বের করে আনেন। 

ওই সময় তরুণী জানান, তাকে রাস্তা থেকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এরপর উত্তেজিত জনতা রনি ও তার গাড়িচালককে পিটুনি দেয়। রাত ৩টার দিকে রনিকে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা। তবে এর আগেই পালিয়ে যায় রনির প্রাইভেটকারের চালক। 

জানা গেছে, দুই সন্তানের বাবা মাহমুদুল হক রনির গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি ঢাকায় ধানমন্ডি-১৫ নম্বরের মিতালী রোডের একটি বাড়িতে থাকেন। বেসরকারি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এই সাবেক ছাত্র পেশায় ব্যবসায়ী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে