স্বাভাবিক জীবনে ফিরল ১৫০ মাদকসেবী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জুন ২০১৮, ২১:৪৭ | আপডেট : ১২ জুন ২০১৮, ২২:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

সারাদেশ জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে রাজধানীর লালবাগ এলাকার দেড়শ জন মাদকাশক্তকে সুচিকিৎসা, কাউন্সিলিং ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে এই দেড়শ জনের হাতে ফুল তুলে স্বাভাবিক জীবনে স্বাগত জানিয়েছে লালবাগ বিভাগের ছয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

‘মাদক ছেড়ে সুপথে ফেরা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক জাফর ইকবাল।

মাদকআশক্তি ছেড়ে আসা পঞ্চাশর্ধ বয়সি চকবাজরের জাহিদ আমাদের সময়কে বলেন, ‘নেশা নিয়া শান্তিতে ছিলাম না ভাইয়া। সংসারে গন্ডগোল লাইগাই থাকত। এলাকাতেও মুখ দেখাইতে পারতাম না। ১৮ বছর ধইরা মাদক নিতাছি ভাই। পরে এলাকায় পুলিশের মাইকিং শুইনা, বউয়ের কথায় থানায় গিয়া ওসিরে বলি মাদক ছাড়ার কথা। হেরা আমারে অনেক সাহায্য করছে। এখন নেশা খাই না।’

একই কথা জানালেন কামরাঙ্গিচরের তাসলিমা বেগমও। তিনি বলেন, ‘স্বামীর পাল্লায় পইরা আমার পুরা পরিবার নেশা ধরছিলাম। পরে আমি আমার সন্তানদের নিয়া থানায় যাইয়া সব খুইলা বলি। তারা আমারে ভাল পথ দেখায়। এখন আমরা ভাল, এলাকার মানুষও আমাদের সম্মান দেয়।’

জাহিদ ও তাসলিমাদের মতো একই ভাষ্য আসিয়া, রনিসহ অন্যদেরও। লালবাগ এলাকায় মাদক ছেড়ে সুপথে ফেরার সংখ্যা এরকম করে বাড়ছে আরও। আর সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির এমন দৃশ্য দেখে মুগ্ধ অধ্যাপক জাফর ইকবালও।

অনুষ্ঠানে জাফর ইকবাল বলেন, ‘বাহ! কি সুন্দর! আগামীতে দেড়শ নয় পুরো লালবাগ মাদকমুক্ত দেখতে চাই। এমন সুন্দর দৃশ্য সব এলাকাতেই হোক।’

অনুষ্ঠানে কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘মাদকসেবিদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ নয়। যুদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। তাই আমরা মাদকসেবিদেরকে সামাজিক প্রচেষ্টায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তার জীবন্ত উদাহরন আজকের এই দেড়শ জন।’

তবে মাদক ব্যবসায়ী এবং মদদদাতাদেরকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে কমিশনার আরও বলেন, ‘মাদকে শূন্য টলারেন্স আমাদের। এই ব্যবসায় বা মদদদাতা হিসেবে যে কেউই থাকুক না কেন, আমি কথা দিচ্ছি তাদের কোমড়ে দড়ি বেধে জেলে ঢোকাবো। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আমরা বিজয় এনেছি, মাদকের বিরুদ্ধেও জয় হবে আমাদের।’  
তবে এতে যদি কোন নিরিহ কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে, তাহলে তার সুনির্দিষ্ট তদন্ত হবে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কমিশনার।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিএমপি লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. ইব্রাহীম খান সহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ এবং ডিএসসিসির কাউন্সিলরা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
ashomoy-todays_most_viewed_news