এনজিও’র কিস্তির টাকার জন্য চড়া সুদে ঋণ, সেই চাপে ‘আত্মহত্যা’

  ফুলবাড়ী প্রতিনিধি

১৩ জুন ২০১৮, ২১:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

প্রতীকী ছবি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় গাছে সঙ্গে ঝুঁলন্ত অবস্থায় ব্যাটারিচালিত এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার ২ নম্বর আলাদিপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ি গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রিকশাচালকের নাম আইনুল সরকার। 

নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, চারটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীর থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন আইনুল। সেই ঋণের টাকার চাপেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আইনুল সরকারের স্ত্রী মোছা. মোমেনা বেগম বলেন, সংসারের অভাব মেটাতে চারটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। এনজিওদের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য স্থানীয় এক দাদনব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন। রিকশার ব্যাটারি নষ্ট হওয়ায় বেশ কিছুদিন থেকে বেকার হয়ে পড়ায় এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীর সুদের টাকা পরিশোধ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন।

মোমেনা বেগম বলেন, রিকশার অচল ব্যাটারি ঠিক করার কথা বলে গত সোমবার সকালে বাড়ি থেকে আইনুল বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরের দিন গতকাল সকালে পাশের গোয়ালডাঙ্গা দীঘির পাড়ের গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। 

আইনুলের মা আমিনা বেগম বলেন, গত সোমবার সকালে আইনুল বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেও রাতে ফেরেনি। দাদন ব্যবসায়ী একই ইউনিয়নের শ্রীহরিপুর ডগড়ার পাড় গ্রামের মো. বাবু দাদনের টাকা তুলতে ওইদিন রাত ৯টায় আইনুলের বাড়িতে আসে। আইনুল বাড়িতে নেই বলার পরও সে বাড়ির বাইরের দরজার ধাক্কাধাক্কি করে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তিনি টাকার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলে যায়।

আমিনা বেগম বলেন, অভাবে পড়ে আইনুল দাদন ব্যবসায়ী বাবুর কাছে সুদের ওপর পাঁচ হাজার টাকা ঋণ করে। ওই পাঁচ হাজার টাকা এখন ১৫ হাজার হয়ে গেছে। সেই টাকা তুলতেই বাবু মাঝে মাঝে আইনুলকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আইনুল আত্মহত্যা করেছে না কি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে এ নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।  

এ বিষয়ে জানতে দাদন ব্যবসায়ী মো. বাবুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে ফোন রেখে দেন।  

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসিম হাবিব বলেন, দাদন ব্যবসায়ীর হুমকি ও চাপের কারণে আইনুল আত্মহত্যা করেছে কি না সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। চাপ ও হুমকির বিষয়টি প্রমাণিত হলে ওই দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে