বাদশা ও সিদ্দিক মুন্সি হত্যার আসামি সবুজ, নুরা গ্রেপ্তার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জুন ২০১৮, ১১:৪৩ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ১১:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর বাড্ডার মাছ বাজারে বহুল আলোচিত বাদশা হত্যার অন্যতম প্রধান আসামিকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড্ডা থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম মো. আহাদুজ্জামান সবুজ (৩২)। এ সময় তার কাছ থেকে দুই হাজার পিচ ইয়াবা জব্দ করা হয়।

একই এলাকায় ডিবির আরেক অভিযানে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এমএস মুন্সি ওভারসিসের মালিক সিদ্দিক হোসেনকে (৫৫) হত্যার আসামি নুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই দুজনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলাইন।

তিনি জানান, সবুজ একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। এছাড়াও শীর্ষ সন্ত্রাসী নূরীর ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অংশ নিত সে। বাদশাকে হত্যার আগে নূরীর নির্দেশনায় টাকা পাওয়ার শর্তে সবুজও অংশগ্রহণ করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাড্ডা মাছ বাজারে বাদশাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে সবুজ। পরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সবুজের বিরুদ্ধে ভিন্ন একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান এডিসি গোলাম সাকলাইন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ লেনদেন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড্ডা মাছ বাজারে বাঁশ পট্টির কাছে বাদশাহকে জনসম্মুখে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় স্থানীয়রা শীর্ষ সন্ত্রাসী নূরীকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে আটক নূরী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরিফ নামের অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরিফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এছাড়াও রাজধানীর বনানীতে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এমএস মুন্সি ওভারসিসের মালিক সিদ্দিক হোসেনকে হত্যার আসামি নূর আমিন ওরফে নূরা (২৭) গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানান এডিসি গোলাম সাকলাইন।

গ্রেপ্তার নূরা অনেক দিন ধরে বাড্ডা, গুলশান ও রামপুরা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী আরিফ, নূরী, শরীফ, পিচ্চি আলামিনদের সহযোগী হিসাবে অস্ত্র ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল ডিবির জালে আটকের পর বেরিয়ে আসে তিনি সহ তার গ্রুপের অন্যান্যদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ভয়াবহ চিত্র।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর বনানীতে চাঞ্চল্যকর বহুল আলোচিত রিক্রটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক মুন্সী হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিল নূরা। ওই হত্যাকাণ্ডে অব্যবহিতর পরেই হত্যাকারী চারজনের ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, ওই ঘটনায় অংশগ্রহনকারী মোট সাতজন। এদের মধ্যে নূরী, শরীফ, সাদ্দাম ও আরিফ রুমের ভিতরে ঢুকে সিদ্দিক মুন্সিকে গুলি করে। আর রুমের গেটে পিচ্চি আলামিন এবং গ্রেপ্তার নূরা অবস্থান করছিল। নূরার দায়িত্ব ছিল ভেতর থেকে সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর বিল্ডিংয়ের গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়ার। ওই উদ্দেশ্যে সে ঘটনার দিন
শেকল এবং তালা সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল।

সিদ্দিক মুন্সীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত চারজন বিভিন্ন সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চাঁদা আদায়ই ছিল মূল উদ্দেশ্য।  এর নির্দেশদাতা সুইডেন প্রবাসী পলাতক যুবদল ক্যাডার নাহিদ। গ্রেপ্তার নূরাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অভিযান দুটি গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বিপিএম, পিপিএম-সেবার নির্দেশনায় এডিসি মো. শাহজাহান পিপিএম’র তত্ত্বাবধানে এবং এডিসি মো. গোলাম সাকলাইনের নেতৃত্বে গুলশান জোনাল টিম দ্বারা পরিচালিত হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে