কলারোয়ায় জামাইয়ের হাতে শ্বশুর খুন

  কলারোয়া প্রতিনিধি

১৯ জুন ২০১৮, ১৩:৫৫ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৮, ১৪:২২ | অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বেড়াতে এসে বৃদ্ধ শ্বশুর আবুল কাশেম গাজীকে (৭৪) হত্যা করেছে জামাই। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক জামাই আব্দুল জলিলকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল কাশেম গাজী উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা গ্রামের মৃত করিম গাজীর ছেলে। আর জামাই আব্দুল জলিল পার্শ্ববর্তী হেলাতলা ইউনিয়নের উত্তর দিগং গ্রামের আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, গত ১০ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী দিগং গ্রামের আব্দুল জলিলের সঙ্গে মেয়ে রেশমা বেগমের বিয়ে হয়। এর পর থেকেই যৌতুক লোভী আব্দুল জলিল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রেশমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। তবে মেয়ে ও তার দুই নাতী-নাতনীর সুখের কথা ভেবে জামাইকে কয়েক দফা নগদ টাকা দেওয়া হয়। সর্বশেষ একটি ইজিবাইক কেনার জন্য টাকা দেওয়া হয়। বর্তমানে সে ইজিবাইক চালাচ্ছে।

রেশমার ভাই মুকুল জানান, পূর্বের স্ত্রী এবং আরও দুই সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে তার বোনকে বিয়ে করে। পরে বিভিন্ন অজুহাতে বোন রেশমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলো। এক পর্যায়ে বোন রেশমা রমজানের শেষের নিয়ে (ঈদের কয়েকদিন পূর্বে) স্বামীর বাড়ি থেকে আমাদের বাড়িতে (পিতার) চলে আসে।

তিনি বলেন,  সোমবার আব্দুল জলিল রেশমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে আসে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্বশুর আবুল কাশেমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে জামাই আব্দুল জলিল ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে বৃদ্ধ শ্বশুর আবুল কাশেমের মাথায় সাজোরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর পরই ঘাতক আব্দুল জলিল পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আব্দুল জলিলকে আটক ও লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলারোয়া থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক আব্দুল জলিলকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই নিহতের ছেলে মুকুল বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে কলারোয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১৫) দায়ের করেছে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে