sara

বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় তরুণের লাশ!

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ জুলাই ২০১৮, ২০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর ব্যস্ততম বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স থেকে অমিত নামে (২০) এক তরুণের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

আজ মঙ্গলবার সকালে কাওরানবাজারের পান্থপথ এলাকার ওই শপিংমলের নিচতলা থেকে তার লাশ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। 
 
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ওই ভবনের সাত তলা থেকে অমিতকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। 

এদিকে আত্মহত্যার জন্য অমিত নিজে লাফ দিয়েছেন, না কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে বা দুর্ঘটনাবশত পড়ে গেছে-তা খুঁজে দেখছে পুলিশ।  

তেজগাঁও থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই ) ইকবার হোসেন জানান, শপিং কমপ্লেক্সের লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বসুন্ধরা সিটির নিচতলায় পূর্ব দিকের চলন্ত সিঁড়ির কাছে খোলা জায়গা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তরুণকে উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মুঠোফোন, স্যান্ডেল ও চশমা বসুন্ধরা সিটির সাত তলায় পাওয়া গেছে। 

ইকবাল হোসেন আরও জানান, ওই তরুণ আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নিজে লাফ দিয়েছেন, না কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে বা দুর্ঘটনাবশত পড়ে গেছেন-তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিহত অমিতের বাবা জানান, অমিত মিটফোর্ড এলাকার একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী। সপরিবারে তিনি পুরান ঢাকার বাবুবাজার এলাকায় থাকতেন। দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে আজ সকালে দোকানের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় অমিত। দোকানে না গিয়ে অমিত বসুন্ধরা সিটিতে কেন গেলেন তা ধারণা করতে পারছেন না তারা। অমিত আত্মহত্যা করেনি কেউ তাকে ওই শপিংমলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তার। 

বসুন্ধরা সিটির নিরাপত্তা প্রধান শাহাবুদ্দিন চাকলাদার জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ পেয়ে নিচতলায় দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মী এগিয়ে যান এবং এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি পুলিশে জানালে লাশ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা। যেখানে অমিত পড়ে ছিলেন, ঠিক ওই বরাবর সপ্তম তলায় রেলিংয়ের কাছে মেঝের ওপর মোবাইল আর চশমা ছিল পাশাপাশি রাখা। একটি স্যান্ডেল সোজা, অন্যটি উল্টো হয়ে ছিল।

শাহাবুদ্দিন আরও জানান, সিনেপ্লেক্সের দর্শকদের জন্য নিচতলার গেট খোলা হয় সকাল সাড়ে ৯টায়। প্রথম শো শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়। সিনেমা দেখার জন্য নিহত তরুণ বসুন্ধরা সিটিতে ঢুকে থাকতে পারেন। সিনেমা হল আট তলায় হলেও সেখান থেকে সাত তলায় যাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো বাধা নেই। চলন্ত সিঁড়ির সামনে শুধু একটা দড়ি দিয়ে আটকানো থাকে। সেই দড়ি গলিয়ে কারো চোখে না পড়েই সাততলায় যাওয়া যায়। প্রতিটি ফ্লোরেই তাদের নিরাপত্তাকর্মী থাকেন। তবে তারা এক জায়গায় বসে না থেকে ঘুরে ঘুরে দেখেন।  ফলে তাদের চোখ এড়িয়ে সপ্তম তলায় নামা কঠিন নয়।

পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, আজ বিপণি বিতানটিতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সপ্তম তলা পর্যন্ত সব দোকান-পাট ছিল বন্ধ। তবে অষ্টম তলার সিনেপ্লেক্স বরাবরের মতই খোলা ছিল। ফলে অষ্টম তলা ছাড়া অন্য কোথাও লোকজন ছিল না। নিহতের মোবাইল, স্যান্ডেল, চশমা সাত তলায় পড়ে থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে পড়েই অমিতের মৃত্যু হয়েছে। ওই মোবাইল ফোনে তার বাবার নম্বর পেয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন।

আবু তৈয়ব আরও জানান, অমিত সাততলায় গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, না কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে, নাকি কেউ হত্যার পর তার স্যান্ডেল, মোবাইল, চশমা সেখানে রেখে এসেছে-এসব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। ভিডিও দেখার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে