রাজধানীতে চাকরিদাতা প্রতারক চক্রের ১৩ সদস্য গ্রেপ্তার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জুলাই ২০১৮, ১৯:২২ | আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৮, ২১:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

দেশে-বিদেশে অফিস খুলে সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্তদের লোভনীয় বেতনে উচ্চপদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চাকরিদাতা প্রতারক চক্রের সদস্যরা। গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমনই একটি চক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মো. আদনান তালুকদার ওরফে আল আমিন, খন্দকার আলমগীর হোসেন ওরফে মাসুম, জহুরুল হক, সৈয়দ শাহরিয়ার সোহাগ, খালেদ মাহমুদ, রহমত উল্লাহ, হাফিজুর রহমান, ইনছান আলী, সিরাজুল ইসলাম, নাদিম উদ্দিন, মেহেদি হাসান, হানিফ কাজী ও মামুনুর রশিদ।

আজ  বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোল্লা নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে লোভনীয় বেতনে উচ্চপদে চাকরি দেওয়ার নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ২০১৩ সাল থেকেই চক্রটি ফরচুন গ্রুপ অব কোম্পানি, রেক্সন গ্রুপ অব কোম্পানি, ম্যাক্স ভিশন গ্রুপ অব কোম্পানি নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এই চক্রের মূলহোতা আল আমিন। এখন পর্যন্ত ৫০ জনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।

এসএসপি জানান, চাকরির আবেদনকারীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে চক্রটি প্রথমে রাজধানীসহ করপোরেট এলাকায় অফিস খুলে এবং চোখ ধাঁধানো ডেকোরেশন করে। যা দেখে সহজেই ভিকটিমের বিশ্বাস অর্জন হয়। একই সঙ্গে তারা কোম্পানির ওয়েবসাইট চালু করে এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারণা চালায়। এরপর আগ্রহীরা যোগাযোগ করলে তাদের ইন্টারভিউ নেওয়ার নাটক করে সবাইকে চাকরি দেয়। এরপর তাদের কাছ থেকে সিকিউরিটি মানি, পেনশন স্কিম এবং ব্যক্তিগত গাড়ি দেওয়ার নামে তিন থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। নির্ধারিত তারিখে ভিকটিম কাজে যোগদান করতে যাওয়ার আগেই তারা অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, চক্রটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের টার্গেট করে। তিন-চার মাস পর পর তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। এরপর বিভিন্ন নামে অন্য স্থানে অফিস খুলে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয় সর্বস্ব। এখন পর্যন্ত চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতারণার দায়ে আটটি মামলা পাওয়া গেছে। এর আগে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার দায়ে র্যা বের হাতেও গ্রেপ্তার হয়েছিল তারা। 

তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও এসএসপি নজরুল ইসলাম জানান।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে