sara

সারা বছর শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব

নতুন পদ্ধতি ‘উন্নত ফিশ ড্রায়ার’

  তৈয়ব সুমন, চট্টগ্রাম

১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০৮:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

দেশে-বিদেশে শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু কীটনাশক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন না হওয়ায় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক মানুষ শুঁটকিবিমুখ হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন পদ্ধতিতে শুঁটকি উৎপাদনের উপায় বের করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের একদল শিক্ষক। তারা কীটনাশক না দিয়ে কীভাবে সারা বছর শুঁটকি উৎপাদন করা যায়, তার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। সিভাসুর

মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নুরুল আবছার খান আমাদের সময়কে বলেন, শুঁটকি উৎপাদনের পুরনো পদ্ধতিতে লবণ ও নানা ধরনের কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াও ধুলা, কাদা ও মাছির কারণে তা অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এতে মানুষ দিন দিন শুঁটকিবিমুখ হচ্ছে। নতুন পদ্ধতিতে শুঁটকি শুকাতে সময় লাগবে সনাতন পদ্ধতির অর্ধেক; থাকবে বিষমুক্ত। উদ্যোক্তারা বলেছেন, শিগগির এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য উš§ুক্ত করা হবে।

শতকোটি টাকার বাজার ফিরিয়ে আনতে সিভাসু উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতির নাম ‘উন্নত ফিশ ড্রায়ার’। এই পদ্ধতিতে দুভাবে মাছ শুকানো যায়। যে স্থানে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে, সেখানে বৈদ্যুতিক মডেল, আর যেখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই, সেখানে সৌর মডেল ব্যবহার করে নিরাপদ শুঁটকি উৎপাদন করা সম্ভব।

উন্নত ফিশ ড্রায়ারের মূল কাঠামো তৈরি করা হয় ধাতব পাত অথবা কাঠ দিয়ে। জিআই পাইপ বা অ্যাংগেল বার দ্বারা আকারভেদে ৯ ফুট দৈর্ঘ্য, ৪ ফুট প্রস্থ ও ৬ ফুট উচ্চতার আয়াতকার কাঠামো তৈরি করা হয়। কাঠামোর একদিকে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ও মশারি জাল এবং অন্যদিকে বাতাস বের হওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের ফ্যান লাগানো হয়। জালের প্রান্তে চারদিকে সেলুলয়েড পলিথিন লাগানো থাকে। আলো নিয়ন্ত্রণের জন্য মেঝেতে বিছানো হয় কালো পলিথিন। তাপমাত্রা বাড়াতে-কমাতে রেগুলেটর ব্যবহার করা হয়। মাছ ঝুলানোর জন্য ড্রায়ারের আড়াআড়িভাবে প্লাস্টিক বা ধাতব পাইপ ব্যবহার করা হয়। তবে স্বচ্ছ পলিথিনের মাধ্যমে সূর্যের কিরণ ভেতরে প্রবেশ করে কক্ষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ওই তাপ ফ্যানের মাধ্যমে মাছের ভেতরে চালিয়ে দিয়ে দ্রুত মাছ শুকানো হয়। এভাবে শতভাগ পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত ও গুণগত মানসম্পন্ন শুঁটকি তৈরি করা হয়।

সিভাসু মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান সুব্রত কুমার ঘোষ আমাদের সময়কে বলেন, উন্নত ফিশ ড্রায়ার কাঠামো তৈরি করতে খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা (এককালীন)। আর মাছ শুকাতে প্রতি তিনদিনে ৩ হাজার ১৭০ টাকা খরচ হবে। এতে ১৫ কেজি মাছ শুকানো সম্ভব। ১২০০ টাকা হিসেবে ছুরি মাছ বিক্রি করলে পাওয়া যাবে ১৮ হাজার টাকা। ১৫ কেজিতে খরচ বাদ দিয়ে লাভ হবে ১২ হাজার টাকা।

সিভাসু সূত্র জানায়, প্রচলিত পদ্ধতি ও ফিশ ড্রায়ারের মাধ্যমে তৈরি শুঁটকির পুষ্টিগত পার্থক্য রয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে তৈরি শুঁটকিতে সাধারণত পানির পরিমাণ থাকে ২৫-৩০ শতাংশ। অন্যদিকে ফিশ ড্রায়ারের মাধ্যমে তৈরি শুঁটকিতে থাকে ১০-১২ শতাংশ। প্রচলিত পদ্ধতির শুঁটকিতে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ থাকে ৫০-৫৫ শতাংশ, আর আধুনিক পদ্ধতিতে থাকে ৬০-৭০ শতাংশ। প্রচলিত পদ্ধতির শুঁটকিতে তেল বা চর্বির পরিমাণ থাকে ৮-১০ শতাংশ, আর আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি শুঁটকিতে থাকে ১০-১২ শতাংশ। প্রচলিত পদ্ধতির শুঁটকিতে খনিজ পদার্থ থাকে ১০-১২ শতাংশ, আধুনিক পদ্ধতির শুঁটকিতে থাকে ১২-১৪ শতাংশ।

চট্টগ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতিবছর দেশে শুঁটকির চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত শুঁটকি দিয়ে প্রায় ২০ হাজার টনের চাহিদা মেটানো হয়। বাকি প্রায় ৩৫ হাজার টন শুঁটকি আমদানি করতে হয় মিয়ানমার, ভারত ও পাকিস্তান থেকে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে