ভল্টের স্বর্ণ হেরফের হয়নি, ভুল বোঝাবুঝি: অর্থ প্রতিমন্ত্রী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জুলাই ২০১৮, ১৪:৫৭ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৮, ১৮:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণের হেরফেরের খবর সত্য নয় বলে দাবি করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, স্বর্ণ নিয়ে মিডিয়ায় আসা তথ্য সত্য নয়। ক্ল্যারিক্যাল কিছু ভুলের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার সচিবালয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, শুল্ক গোয়েন্দা ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিদেশে থাকায় প্রতিমন্ত্রী 'জরুরি' এই বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম, এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের দেওয়া সোনা জমা রাখার সময় সোনা ৪০ শতাংশই ছিল। কিন্তু ইংরেজি-বাংলার হেরফেরে সেটা ৮০ শতাংশ লিখে ভুলবশত নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ৮০ এবং ৪০-এ ক্লারিক্যাল মিস্টেক হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'ছয় স্তরের নিরাপত্তা আছে, কোনো স্বর্ণ বাইরে যায়নি। জনগণের সম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। তাই টোটাল নিরাপত্তা সিস্টেমটা পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।'

বিষয়টিকে সরকার ছোট করে দেখছে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, 'পর্যলোচনা করে কারও বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে, যা যা দেখার তা দেখা হবে। অস্বস্তি ব্যাপার হলো, যে মাত্রায় এটা গতকালকে প্রকাশ করা হলো, তা বাস্তবভিত্তিক নয়।

এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আপনারা সুন্দরভাবে খবর পরিবেশন করুন, এটা আপনাদের দায়িত্ব।' 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সব সিস্টেমই পর্যালোচনা করব। পর্যালোচনা করে যদি কারও সামান্যতম গাফিলতিও পাই, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা করব।'

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এটা দেখার বিষয় আছে। আমি মন্ত্রীকে ব্রিফ করব। করার পর তদন্ত কমিটি হবে, নাকি পর্যালোচনা কমিটি হবে, তা আমি এ মুহূর্তে আপনাদের বলতে পারছি না। তবে, এটা দেখা হবে। অবশ্যই আইনানুগভাবেই দেখা হবে।'

গতকাল মঙ্গলবার একটি দৈনিকে 'বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর দিনভর আলোচনা চলে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ পরীক্ষা করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা তিন কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চাকতি ও আংটির জায়গায় এখন আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। আর ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হোসেন এবং ভল্টের দায়িত্বে থাকা কারেন্সি অফিসার আওলাদ হোসেন চৌধুরী মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণে কোনো ধরনের হেরফের হয়নি; স্বর্ণকারের ভুলে ভাষার গণ্ডগোলে ৪০ হয়ে গেছে 'এইটটি'।

আওলাদ বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রুটি বলতে যা আছে, নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি-বাংলার ভুল। এর বাইরে অন্য ত্রুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই।'

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে