ঘরে গলা কাটা মা-মেয়ে, বারান্দায় ঝুলন্ত বাবা

  গাজীপুর প্রতিনিধি

১৯ জুলাই ২০১৮, ২২:৪৩ | আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৮, ০১:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে এক মা-মেয়ের গয়া কাটা ও স্বামীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ক্রয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিটি করপোরেশনের  হায়দরাবাদ এলাকা থেকে ওই তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন-কামাল হোসেন(৪০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম(৩৫)  ও তাদের মেয়ে সানজিদা কামাল ওরফে রিমি (২১)।

নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, আজ সকালের নিহত কামাল হোসেনের ভাইয়ের স্ত্রী মাহমুদা বেগম তার মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় তিনি কামাল হোসেনের বাড়ির বাইরের লাইট জ্বালানো দেখতে পান।

লাইট জ্বলছে কারণ দেখার জন্য গিয়ে মাহমুদা ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এ সময় অন্য স্বজনরা গিয়ে তালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে ঢোকেন। 
সেখানে তারা ঘরের মেঝেতে মা নাজমা বেগম ও মেয়ে সানজিদার গলা কাটা করা লাশ দেখতে পান। আর ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিলো কামাল হোসেনের লাশ।
খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ বেলা আড়াইটার দিকে তিনটি লাশ উদ্ধার করে।

মরদেহ সুরতহাল শেষে জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল আলম জানান, নিহত মা-মেয়ের গলা, পেট কাটা। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ ও জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ বলেন, 'নিহত ব্যক্তির ব্যক্তিগত চরিত্র হিসেবে যা জানতে পেরেছি, তাতে তার সঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্টতা আছে। তারপরও বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তরগুলো এখনও আমাদের কাছে নাই। যে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যা করা হয়েছে সেটি আমরা খুঁজে পাইনি। এটা আমরা খুঁজছি।'

রাসেল শেখ আরও বলেন, 'আর একটা বিষয় হল ঘরের ভেতর থেকে তালা দেওয়া ছিল। এটি আমি পরিক্ষা করে দেখছি। তবে এটি বাইরে থেকে যে কেউ দিতে পারে। আর যে গৃহকর্তা ঝুলে আছেন তার পা ঘরের মেঝের সঙ্গে লাগানো রয়েছে। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি। আর মা এবং মেয়েকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা বিকৃত মানসিকতা বলে মনে হয়েছে। তাদের শরীরে যে ধরনের আঘাত তাতে স্বাভাবিক মানসিকতার কেউ এটি করার কথা নয়।'

তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে