ভ্যাকসিন নিয়ে টানাটানি, প্রাণ গেল রোগীর

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

২১ জুলাই ২০১৮, ২১:৫৩ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ০০:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মনিরা আফরোজেরে দায়িত্বে অবহেলার কারণে আবু সাইদ নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ শনিবার সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই চিকিৎসকের বিচার দাবি করেছে নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত আবু সাইদ কালিহাতী উপজেলার চর ভাবলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম শান্ত লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত ১৬ জুলাই সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আমার বাবাকে সাপে কামড়ায়। দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মনিরা আফরোজের অধীনে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির সময় বাবার পায়ের দুটি বাঁধন খুলে দেওয়া হয় এবং বলা হয়, হাসপাতালে সাপে কাটার ভ্যাকসিন নেই।’

শহিদুল ইসলাম শান্ত কালিহাতী উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরিফ হোসেন খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাপে কাঁটার ভ্যাকসিন না থাকার বিষয়টি জানালে তিনি হাসপাতালে ভ্যাকসিন আছে বলে আমাকে নিশ্চিত করেন। সাপে কাটার ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সিভিল সার্জন নিজে কর্তব্যরত ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালককেও বিষয়টি জানান।’

নিহতের ছেলে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘সিভিল সার্জন ফোনে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ডা. মনিরা আফরোজ। সিএস বললেই দিতে হবে, আপনি হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেন বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। তখন আমি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সদর উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলি। তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। এ সময় তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে জানান, আরএমও এর সঙ্গে কথা বলছি ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমি ডা. মনিরা আফরোজের সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, আরএমও’র সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কিন্তু আমি অ্যান্টি স্নেক ভেনম ভ্যাকসিন দিতে পারব না। পরবর্তীতে বিকেল ৫টার দিকে তিনি আমার বাবাকে ঢাকা অথবা ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর অবস্থার অবনতি হলে আমরা তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যাই। ময়মনসিংহ হাসপাতালে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে বাবাকে ভর্তি করানো হয়। পরে ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি মারা যান।’

নিহতের পরিবারের অন্য সদস্যরা বলেন, ‘যার কারণে আমরা আমাদের অভিভাবক হারালাম তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে ডাক্তারের অবহেলার কারণে আর কোনো মানুষের মৃত্যু না হয়।’

এ বিষয়ে ডা. মনিরা আফরোজ বলেন, ‘সিভিল সার্জন আমাকে ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেটিংসের কারণে আমি দিতে পারিনি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়।’

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান বলেন, ‘আমি ওই ডাক্তারকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে বলেছিলাম। ভ্যাকসিন না দেওয়ার কারণে রোগীর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। অবশ্যই ডা. মনিরা আফরোজের এ বিষয়ে অবহেলা রয়েছে। কারণ তিনি প্রথমে স্বীকার করেন নাই ভ্যাকসিন আছে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে