ডিবি সেজে টাকা হাতাতেন পুলিশ সদস্য!

  নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

২১ জুলাই ২০১৮, ২২:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

লাল গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় এএসআই কমরুল ও মোটরসাইকেলে বসা কথিত সোর্স নাইম।

নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য বলে পরিচয় দিতেন বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুল ও তার কথিত সোর্স নাইম। এ পরিচয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষকে মাদকসহ বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে একই কায়দায় টাকা আদায় করতে গেলে ওই দুজনকে আটক করে গণধোলাই দেয় গ্রামবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ি গ্রামে।

পরে রাত ১০টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ওই দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।পরে শুক্রবার রাতেই এএসআই  কামরুলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া কথিত সোর্স নাইমকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রামবাসী জানায়, চারদিন আগে থেকে কামরুল ও নাইম সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকায় যান। তারা নিজেদেরকে ডিবি পরিচয় দিয়ে এলাকায় চলাচল করা মোটরসাইকেল আটক করেন। আবার কাউকে ইয়াবা দিয়ে থানায় চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন।

ঘোলাগাড়ি গ্রামের রহিমা বেগম জানান, গত বুধবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় একটি হোটেল থেকে তার ছেলে আইনুরসহ পাচঁজনকে আটক করে একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এর পর ইয়াবা দিয়ে থানায় চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার করে টাকা নেন।

ওমর ফারুক নামের অপর একজন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ছোট বোনকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় আটক করে কামরুল তাদের মধ্যে সম্পর্ক জানতে চান। সর্ম্পক নিশ্চিত হওয়ার পর ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করেন কামরুল।

তালেব মুহুরি নামের একজন জানান, তার মোটরসাইকেল আটক করে ২ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করেন ওই কামরুল ও নাইম। এ ছাড়া কম্পিউটার দোকানদার এখলাসের দোকানে জুয়া খেলার অভিযোগ এনে ৪ হাজার টাকা নেন। দর্জি দোকানি লুৎফরের বিরুদ্ধে গাঁজা সেবনের অভিযোগ এনে মারধোর করেন এবং ৫ হাজার টাকা আদায় করেন। 

এলাকাবাসী জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকেলে ওই দুইজন আবারও এলাকায় গেলে গ্রামের লোকজন ডিবি অফিসে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয় যে-ডিবির কোনো সদস্য ঘোলাগাড়ি গ্রামে যাননি। গ্রামের লোকজন তাদের নাম জানতে চাইলে তারা নিজেদের হাসান ও মিজান বলে পরিচয় দেন।

পরে ডিবি অফিসে আবারও যোগাযোগ করে গ্রামের লোকজন জানতে পারে হাসান ও মিজান নামে ডিবিতে কেউ নেই। এর পর তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চায় গ্রামবাসী। পরিচয়পত্র দেখাতে না পারলে শুরু হয় গণধোলাই।

এদিকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের খবর পেয়ে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই)  নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তাদের সহযোগিতায় ওই দুজনকে স্থানীয় স্কুল ঘরে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

পরে রাত ১০টার দিকে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করতে গেলে স্কুল মাঠে হাজার-হাজার মানুষ সমবেত হয় এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি করে। সেই সঙ্গে কয়েকদিনে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করে দুজনকে থানায় নিয়ে যাওয়ার দাবি জানায় তারা।

এ সময় সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করে থানায় জমা দেন। টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান বলেন,‘কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়ার অভিযোগে শুক্রবার রাতেই এএসআই  কামরুলকে থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। তার সোর্স নাইম পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

বদিউজ্জামান আরও বলেন,‘এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে