মিরপুরে ‘গুপ্তধন’ পাওয়ার অপেক্ষা বাড়ল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুলাই ২০১৮, ১৬:৩৬ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ২৩:১০ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : স্টার মেইল

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের একটি বাড়িতে গুপ্তধন আছে, এমন খবরের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার ছয় ঘণ্টা ধরে চলে ঘরের মাটি খোঁড়াখুড়ি। কিন্তু ২০ জন শ্রমিক টিনশেডের ওই বাড়ির দুটি কক্ষের প্রায় চার মিটার খনন করেও গুপ্তধন না পেয়ে কাজ স্থগিত করা হয়। 

আজ রোববার নতুন করে ওই গুপ্তধনের খোঁজে আবার মাটি খননের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। একটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে। সেই পর্যন্ত বাড়িটি পুলিশের পাহারায় থাকবে।  

বাড়িটিতে গুপ্তধন সন্ধানে খনন কাজে দায়িত্বরত ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ আমাদের সময়কে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আজ সকাল থেকে মিরপুরের ওই বাড়িতে আবার খননকাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু গৃহায়ণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল এখানে এসেছিল। তারা বলেছে, ওই বাড়ির তিন দিকে আবাসিক বাড়ি আছে, যেভাবে খোঁড়াখুড়ি চলছে, এভাবে চলতে থাকলে পাশের বাড়িগুলোতে বসবাস করা ‍ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং ভবনগুলোতে ফাঁটল ধরতে পারে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, এ জন্য গৃহায়ণ বিভাগের একটি বিশেষ দল গঠন করা হবে। এরপর তারাই সিদ্ধান্ত নেবে, আসলে কীভাবে বাড়ির মাটিটা খোঁড়া হবে। ওই সময় পর্যন্ত বাড়িটা সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারায় থাকবে।

গতকাল মিরপুর বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয় তখন এই বাড়িটা ছিল জল্লাদখানা। এই বাড়ির মূল যে অধিবাসী ছিলেন তিনি পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তারই এক আত্মীয় এসে কিছুদিন আগে আমাদের কাছে গুপ্তধন থাকার থাকার তথ্য দেন। গুপ্তধনের বিষয়ে ওই ব্যক্তি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর এই বাড়ির বর্তমান অধিবাসীরাও মিরপুর থানায় একটা জিডি করেন।’

ডিসি আরও বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরাও কোর্টের অনুমতি নিয়েছি যে এখানে কী আছে, তার খনন পদ্ধতিতে কী হবে। কার উপস্থিতিতে খনন হবে যাতে করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যদি কিছু পাওয়া যায়। তবে সে বিষয়ে আইনগতভাবে বিষটি মীমাংসা করা হবে। এ জন্য কয়েক দিন আগে কোর্ট একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ খনন কাজের অনুমতি দেন।’

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেখানে মাটি খনন শুরু হয় বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে