sara

সিলেট সিটি নির্বাচন

নৌকার স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে সিল, চার কেন্দ্রে সংঘর্ষ

  আলী আসিফ শাওন, সিলেট থেকে

৩০ জুলাই ২০১৮, ১৩:৩৫ | আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৪:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নগরীর ঝর্ণারপাড় এলাকার কাজী জালাল উদ্দিন বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নৌকার স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভোট কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে,কাজী জালাল উদ্দিন বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে হঠাৎ একদল যুবক নৌকায় স্লোগান দিতে দিতে ভেতরে ঢোকে। ভোটকক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার হাতে নেয় তারা। পরে একর পর এক ধানের শীষে সিল মারতে থাকেন তারা।

পরে এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। ঘটনার পর নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ উদ্দিন প্রিন্স বলেন, ‘একটি বিশৃঙ্খলার সংবাদ পেয়ে আমরা কেন্দ্রে আসি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূলে আসলে আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হবে।’

এর আগে সিলেট নগরীর আরও তিনটি ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসাররা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জনিয়েছেন, আজ সোমবার সকালে নগরীর ওই ভোট কেন্দ্রগুলোতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্রায় ৫০টি ভোট গ্রহণের পর নারী কেন্দ্রের ওই তিনটি বুথে কয়েকজন লোক ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। ভোটাররা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রুবেল আহমেদের (রেডিও মার্কা) লোকজনকে প্রায় ৫০টির মতো ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন।

এ সময় ওই কেন্দ্রের নীচতলায় নারী কেন্দ্রের ১, ২, ৩ ভোটকক্ষ থেকে ব্যালট ছিনতাই করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে দ্বিতীয় তলার পুরুষ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ভোটকক্ষে জাল ভোট দেওয়ার এ অভিযোগ উঠে। এর পরপরই ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই প্রিজাইডিং অফিসার সয়ফুল আলম ও বাবলুর রশিদ কক্ষগুলোতে তালা মেরে দেন। এরপর কাউন্সিলর প্রার্থী রিমাদ আহমদ রুবেলের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ভোট কেন্দ্রে হামলা চালান।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনি কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেন, ‘আমরা শুনেছি,খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক স্কুলে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন ঝামেলা করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। আধা ঘণ্টা পর আবার সেখানে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

সকাল সোয়া ১১টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ কারণে কিছু সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জামিল আহমেদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ওই ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। তবে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর আবারও ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

নগরীর টিলাগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছাত্রলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ধানের শীষের এজেন্টরা বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে আধা ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার পর সাড়ে ১১টায় পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ফিরোজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে