এটা নির্বাচনের নামে ছেলেখেলা : বুলবুল

  নজরুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন শিমুল, রাজশাহী থেকে

৩০ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩১ | আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৮, ২১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। পুরোনো ছবি

আজ সোমবার সকাল ৭টা। ভোটের চিত্র দেখতে উপশহরের বাসা থেকে বের হন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি একে একে নগরীর ৩০টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় বুলবুল যান ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে। তার ভাষ্যমতে, ‘আমি যত কেন্দ্র ঘুরেছি সব কেন্দ্রেই অনিয়ম দেখেছি। কোথাও কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং অ্যাজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৮৬টি কেন্দ্রে এই ধরনের নানা অনিয়ম হয়েছে। সর্বশেষ আমার দেখা ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্র। এখানে আমি নিজেই এই অনিয়ম হাতেনাতে ধরেছি। এখানে নৌকা মার্কায় সিল মেরে তারা ব্যালট পেপার বাক্সে ভরেছে।’

অভিযোগ উঠেছে, নৌকা মার্কায় সিল মারার কারণে অনেক আগেই কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীর ব্যালট পেপার ফুরিয়ে যায়। এর প্রতিবাদে মেয়র প্রার্থী বুলবুল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ও্ই কেন্দ্রে মাটিতে বসে পড়ে অবস্থান নেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন বিএনপির এই মেয়রপ্রার্থী।

মোসাদ্দেক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্থানীয় ও (রাজশাহীর) বাহির থেকে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় রাতে অনেক সেন্টারে ভোট কাটা হয়েছে। আমি সকাল থেকে ৩১টি কেন্দ্রে গিয়েছি। তাদের অনিয়ম আমার চোখে ধরা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও যারা রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, তারা ডাইনিং টেবিলে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে কী বলবেন? এমন অনিয়মের নির্বাচন করে তারা ঠিক করেছেন কি না? গণতন্ত্র যে উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে, তা ধোঁয়াশা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ায় আমি আমার ভোটাধিকারও প্রয়োগ করিনি।’

বুলবুল বলেন, ‘আমি মনে করি, যেখানে রাষ্ট্রের কর্মচারীরা ভোট চুরির সাথে সম্পর্কিত সেখানে আমার ভোটের কোনো দাম নাই।’

তবে বুলবুলের এ ভোট না দেওয়াকে নৌকার প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘এই ভোট না দেওয়া অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত ও জনগণকে ছোট করা।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুলবুল যখন মাঠে অবস্থান নিয়ে বসেছিলেন তখন প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা অফিস কক্ষে বৈঠক করছিলেন। বৈঠক শেষ করে সেখান থেকে ঠিক ৪টা বাজার তিন মিনিট আগে এসে ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল্লাহিল শাফী বললেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষ।’ সঙ্গে সঙ্গে বুলবুল তার অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বুলবুলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান মিনু ও তার প্রধান অ্যাজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু।

জানতে চাইলে ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল্লাহিল শাফী বলেন, ‘ব্যালট পেপার ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রের ভেতরে কিছু লোক এসে ঝামেলা করছিল, তাই কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।’

তবে একাধিক ভোটার ভোট দিয়ে ফিরে এসে বলেছেন, তারা কাউন্সিলর পদে ভোট দিয়েছেন তবে মেয়রের ব্যালট পেপার না থাকায় ভোট দিতে পারেনি।

ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে যাওয়ার আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বুলবুল যান নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে যাওয়ার আগে নৌকার মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকরা তার ১৭ জন অ্যাজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে খবর পান। পরে তিনি সেখানে গিয়ে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিজ নিজ বুথে বসান।

এর আগে বুলবুল যান ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জাতীয় তরুণ সংঘ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে গিয়ে দেখেন, ১০টি বুথের নয়টি থেকেই ধানের শীষের পোলিং অ্যাজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সেখানেও তিনি এসব অ্যাজেন্টদের দায়িত্বরত নির্বাচন কর্মকতাকে বলে নিজ নিজ আসনে বসিয়ে দেন। তবে তার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় যান সইজুদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে গেলে কিছু নেতাকর্মী তাকে ঘিরে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি ও তিন নারী অ্যাজেন্টকে বের করে দেওয়ার চিত্র তুলে ধরছিলেন।

এ সময় বুলবুল তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা যুদ্ধ, এটা একাত্তর। কী করবে ওরা মেরে ফেলবে। ফেলুক না।’ এরপর তিনি বের করে দেওয়া তিন নারী অ্যাজেন্টকে তাদের বুথে বসিয়ে দেন।

বিকেলে জানতে চাইলে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৮৬টি কেন্দ্রে ভোটের অনিয়ম করেছে ক্ষমতাসীনরা। এটা নির্বাচন নয়, নির্বাচনের নামে ছেলেখেলা।’

সংশ্লিষ্ট খবর : 

ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বসে থাকব : বুলবুল

'এটা নির্বাচন নয়, একাত্তর সালের যুদ্ধ চলছে'

৩ সিটিতেই এগিয়ে নৌকা

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে