যৌতুক না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর পেটে লাথি!

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

১০ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫১ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি

যৌতুকের টাকা না পেয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ হাফিজা আক্তারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী বেলাল হোসেন ও শাশুড়ি রাশিদা বেগমের বিরুদ্ধে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বরগুনার কলাপাড়া উপজেলার চাকামুইয়া গ্রামে মারধর করা হয় হাফিজা আক্তারকে। পরে রাতে তাকে  বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।  

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৬ সালে তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা গ্রামের হারুন অর রশিদের মেয়ে হাফিজা আক্তারকে কলাপাড়া উপজেলার চাকামুইয়া গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তিন ভড়ি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেয় মেয়ের পরিবার। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অযুহাতে স্ত্রী হাফিজাকে নির্যাতন করে আসছেন তার স্বামী ও শ্বাশুড়ি।

গত বছর মোটরসাইকেল কেনার জন্য হাফিজাকে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলেন বেলাল হোসেন। কিন্তু হাফিজার দরিদ্র বাবা ওই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। ওই সময় থেকে হাফিজাকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছেন বেলাল হোসেন ও তার মা।   

গতকাল দুপুরে মায়ের পারমর্শে বেলাল হোসেন মোটরসাইকেলের কিস্তির ১০ হাজার টাকা হাফিজার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে বলেন। হাফিজা বাবা এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে ওই দিন বিকেলে হাফিজার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেন তার স্বামী ও শাশুড়ি। একপর্যায় স্বামী ও শ্বাশুড়ি ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা  হাফিজার পেটে লাথি ও কিল-ঘুষি মারেন। এতে হাফিজা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে স্বজনরা হাফিজাকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে হাফিজা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী ও শ্বাশুড়ি মোটরসাইকেলের কিস্তির ১০ হাজার টাকা আমার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে বলেন। আমি এ টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে আমার পেটে লাথি, কিল-ঘুষি দিয়ে মারধর করেছে। মারধরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এখন আমার পেটে ব্যথা করছে।’ 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হারুন-অর রশিদ বলেন, ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা হাফিজার শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

জানতে চাইলে ১০ হাজার টাকা যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী যদি বলে থাকে তাহলে মারধর করেছি।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন মিলন বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে