​অতি দ্রুত রাজনৈতিক চিত্রের পরিবর্তন ঘটবে : মওদুদ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২৩ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। ছবি : ফোকাস বাংলা

দেশে কোনো সরকার নেই দাবি করে অতি দ্রুত রাজনৈতিক চিত্রের পরিবর্তন ঘটবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন  ফোরামের উদ্যোগে ‘শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং বিএনপি  নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা কেন’ শীর্ষক আলোচনা সভা মওদুদ এসব কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপরে আক্রমণ হয়, কারা আক্রমন করেছে আমরা সবাই তা জানি এবং একজনও গ্রেপ্তার হয় নাই। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি চলে গেল একজনও গ্রেপ্তার হয় নাই, সোনা রূপা হয়ে গেল, তামা হয়ে গেল একজন মানুষও গ্রেপ্তার হয় নাই, এক লক্ষ টনের ওপরে কয়লা উধাও হয়ে গেল একজনও গ্রেপ্তার হয় নাই। এখানে কী সরকার আছে? এসব কিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনো সরকার নাই। সরকার থাকলে তো এসব হওয়ার কথা নয়।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আজকেও বলতে চাই, অতি দ্রুত বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্রের পরিবর্তন ঘটতে থাকবে। পরিবর্তনের শেষ সময় এখন এসে গেছে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সরকারের একজন তল্পিবাহক ব্যক্তি। বিবেকের তাড়নায় একটা সত্য কথা বলে ফেলেছেন। সেটা হলো আগামী সাধারণ নির্বাচনে যে অনিয়ম হবে না সেটার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভবপর নয়। খবরের কাগজে দেখলাম; চার জন নির্বাচন কমিশনার সিইসির এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষন করেছেন। এরপরে এই সিইসির আর নিজের পদে থাকার অধিকার থাকতে পারে না। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি।’

মন্ত্রীসভায় সড়ক পরিবহন আইন অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা করেছেন বলে মনে করেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া প্রস্তাবিত পরিবহন আইন- ইটস এ টোটালি এ পলিটিক্যাল ব্লাপ। সরকার রাজনৈতিক প্রতারণা করেছে। শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। আইন যা ছিল তাই রেখেছে এবং এই আইনের মধ্যে একটি পরিবর্তন হয়েছে, তিন বছরের জায়গায় পাঁচ বছর কারাদণ্ড হবে। আর ফাঁসির ব্যাপারটা দেখেছেন যদি হত্যা প্রমাণিত হয় তাহলে ফাঁসি হবে। যেটা অসম্ভব। কে কীভাবে কখন কীভাবে প্রমাণ করবে। অর্থাৎ এটা ফাঁকিবাজী। এটা ব্লাপ, প্রতারণা। যে প্রতারনা সরকার করেছিল কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও।’

দৃক গ্যালারির কর্ণধার প্রবীন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘সরকার একেবারে বেপরোয়া হয়ে গেছে। তারা বুঝতে  পেরেছে জনগণের সঙ্গে তাদের আর সম্পর্ক নেই, তারা জনগণ  থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে-এই উপলব্ধি তাদের মধ্যে এসছে বলে তারা এত নিষ্ঠুর ও হিংস্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ  মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর তারা এজন্য অত্যাচার করছে।’ অবিলম্বে  গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীকে আমরা জানতাম একজন প্রগতিশীল ব্যক্তি, তাকে আমরা জানতাম তিনি একজন জনদরদী মানুষ। তিনি আজকে নিপীড়ক ও নির্যাতনকারীর পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষমা নেই, তাদের শাস্তি পেতে হবে। এর চাইতে দুঃখের বিষয় আর কি হতে পারে।’

সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন— বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শওকত মাহমুদ,সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে