sara

যে কারণে ফের রিমান্ডে নওশাবা

  আদালত প্রতিবেদক

১০ আগস্ট ২০১৮, ২০:২১ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি

ছাত্র আন্দোলনের সময় ফেসবুক লাইভে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলায় অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদকে (৩৪) আবার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজন অ্যান্ড ট্যান্সন্যাশনাল ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ড শেষে পুনরায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। রিমান্ড শুনানিকালে এই আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় ওঠানো হয়। তার পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করা হয়।

পুনরায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি তার নিজের মোবাইল থেকে নিজ নামের ফেসবুক আইডিতে গত ৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ি থেকে অত্যন্ত আবেদনময়ী কন্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করেন। নওশাবা যাদের প্ররোচনা ও মদদে ফেসবুক লাইভে গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করেন, তাদের চিহিৃত করতে ও গ্রেপ্তার করতে পুনরায় ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নওশাবা ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘আমি কাজী নওসাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোটভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসাথে হোন। প্লিজ ওদের প্রটেকশন দেন। বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন এবং ওদের প্রটেকশন দেন। এটা আমার রিকোয়েস্ট।’

ওই লাইভ ভিডিওতে নওশাবা আরও বলেন, ‘আমি এ দেশের একজন মানুষ, নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি যে, জিগাতলায় একটু আগে একটি স্কুলে একটি ছেলের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একটু আগে ওদের এট্যাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ প্লিজ ওদের বাচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখই নামবেন। আপনাদের বাচ্চাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। এটা আমার রিকোয়েস্ট।’

এই অভিনেত্রী লাইভে বলেন, ‘যে পুলিশরা আছে, তারা অবশ্যই বাচ্চাদের প্রটেকশন দেন। আপনারা প্লিজ কিছু একটা করেন। সরকার যদি দায়িত্ব নিতে না পারে। তাহলে জনগণ কিসের জন্য আছেন আপনারা। আমরা ৭১-এ পেরেছি, ৫২-এ পেরেছি এবারও পারব। আমাদের দরকার নাই কাউকে।’

নওশাবার ওই আহ্বান মুহূর্তের মধ্যে দেশি-বিদেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফলে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা তার এই মিথ্যা প্রপ্রাগন্ডার উৎস জানার জন্য ফোন করলে সে তার সপক্ষে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সে ইচ্ছাকৃতভাবে ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ভাবমূতি ক্ষুণ্ন করার জন্য এবং জনসাধারণের অনিুভূতিতে আঘাত করার জন্য এইরূপ মিথ্য ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করে।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য ও সনাক্ত মতে, লাইভে ব্যবহার করা মোবাইল সাক্ষীদের মোকাবিলায় জব্দ করা হয়েছে। এ আসামি যাদের প্ররোচনা ও মদদে ফেসবুক লাইভে গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করে তাদের চিহিৃত করতে ও গ্রেপ্তার করতে পুনরায় ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

রিমান্ড শুনানিকালে নওশাবার পক্ষে তার আইনজীবী কাউসার আহম্মেদ, শ্যামল কান্তি সরকারসহ প্রমুখ আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানির শুরুতে নওশাবার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতে অবহিত করে তার বসার অনুমতি চান আইনজীবী। আদালত অনুমতি দিলেও শুনানিকালে পুরোটা সময়  দাঁড়িয়েই ছিলেন।

শুনানিতে নওশাবার আইনজীবীরা বলেন, আসামিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে, তিনি একজন দাগি আসামি। তিনি ১০ বছর আগে থেকে শিশুদের নিজের কাছে এনে লালন-পালন করছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন।  রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মানববন্ধন করেছেন। তিনি ১০ বছর ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ছয় বছরের একটি বাচ্চাও আছে। সব কিছু মিলিয়ে শিশুদের জন্য তার একটা সফট কর্ণার রয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, ঘটনার দিন ওই সময় একটি ছেলে তাকে ঘটনার বিষয়ে বলে। ওই খানে ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আমরা জানি, উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ওখানে ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে শুনে ইমোশনাল হয়ে তিনি কাজটি করেছেন। পরে ওই ঘটনার জন্য তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। তা ছাড়া তিনি এমন কী করেছেন যে চার দিনের রিমান্ডের পর আবার রিমান্ডে নিতে হবে? এখানে রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আইনজীবীরা বলেন, আসামি অসুস্থ, ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল রেকর্ড নাই। জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না। আর জামিন না দিলে রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিতে পারেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডর আদেশ দেন।

এদিকে রিমান্ড শুনানিকালে কাঠগড়ায় অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে নওশাবাকে। মাঝে-মধ্যে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নওশাবা। শুনানিকালে আদালতে তার বাবা-মা এবং নাট্য অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চুসহ অনেকেই উপস্থিত হন। এর আগে গত ৫ আগস্ট নওশাবার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। এরপর র‌্যাব-১ বাদী হয় মামলাটি করে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে