আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম খান

তফসিল ঘোষণার আগেই সংলাপ চায় বিএনপি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩৯ | আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম। ছবি : ফোকাস বাংলা

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সংলাপ চায় বিএনপি। আজ শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম  খান এই কথা জানান।

জাতীয় প্রেসক্লাবে মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় নজরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন যদি নির্বাচনে না হয় তাহলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। সেই নির্বাচন হতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। আমরা সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। অন্যান্য ন্যায্য দাবি মানতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে ফয়সালা করতে হবে। তারপরেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা। তারপরেই নির্বাচন। নইলে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। একই খেলা বার বার হয় না। কাজেই সরকারকে বলতে চাই, সম্মানজনক নিষ্ক্রমনের পথ, সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ একটাই অবশিষ্ট আছে। সেটা হলো অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, রাজবন্দিদের মুক্তি দিন। যেসব শিশু-কিশোরদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে রেখেছেন তাদের মুক্তি দিন।’

সিলেট সিটি করপোরেশ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া দুই কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল তুলে ধরে নজরুল বলেন, ‘সরকার জানে যে, ওই দুইটি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী যদি ১৬১টা ভোট পায় তাহলেই জিতে যাবে। কাজেই ওখানে কারচুপির চেষ্টা করলো না। এর ফলে যেটা হলো আমাদের প্রার্থী দুই হাজারের বেশি  পেলেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেলেন ৫০০ ভোটের মতো। অর্থাৎ চার ভাগের একভাগ। এটাই হলো দেশের নির্বাচনের হিসাব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সারা দেশে ওরা (আওয়ামী লীগ) পাবে আমাদের চার ভাগের এক ভাগ ভোট। আর সেই ভয়েই তারা নির্বাচন এমনভাবে করতে চায় সেভাবে তাদের জেতা নিশ্চিত করে। অনুগত নির্বাচন কমিশন, অনুগত প্রশাসন এবং আইনি অস্ত্রের বেআইনি প্রয়োগ করে, বেআইনিভাবে হয়রানি ইত্যাদি করে।’

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের ব্যাখ্যা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের ব্যাখা দিয়ে নজরুল বলেন, ‘আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার এক বক্তব্যে স্বাধীনতার কথা বলেছে যে,ফিরিয়ে আনতে হবে। এই কথার অর্থ এই না যে, আবার একাত্তর সালের মতো লড়াই করে ওই রকম স্বাধীনতা আমাদের আনতে হবে। বুঝতে হবে আপনাকে রাজনীতির ভাষা। এই স্বাধীনতার মানে হলো, আপনার রাজনীতি করার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের স্বাধীনতা, সুন্দর, সুস্থ ও নিরাপদে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা। অর্থাৎ স্বাধীনতা বলতে যা বুঝায়। আসলে স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকবে না এটা স্বাধীনতা নয়। সেই কারণে বলেছেন উনি এই কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন এটা কী রাষ্ট্রদ্রোহীতা নয়।’

২০০৭ সালে ওবায়দুল কাদের বক্তব্য তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘উনি ওই সময়ে বলেছিলেন, বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেবেন। অক্সিজেন বন্ধ হলে মানুষ বাঁচে? বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিল, সামরিক-বেসামরিক সদস্যরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিল। এখন কী আমরা বলব যে, উনি তাদেরকে হত্যা করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন? আজকে আপনি (ওবায়দুল কাদের) যখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোনো কথায় খোঁজাখুজি করতে চান তখন তো আপনার কথারও খোঁজাখুজি করা লাগে একটু। আপনি সেই সময়ে অক্সিজেন বন্ধ কইরা বঙ্গভবনে বসাবাসরত এতগুলো মানুষের জীবন বিনাস করতে চেয়েছিলেন। এটা কী রাষ্ট্রদ্রোহীতার চেয়ে কম বড় অপরাধ নয়, এতগুলো মানুষের খুনের চেষ্টা কম  অপরাধ নয়।’

মহানগর উত্তরের সভাপতি জুলফিকার মতিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন— বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার  হোসেইন প্রমুখ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে