যানজটমুক্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, স্বস্তিতে ঘরমুখো মানুষ

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

১৯ আগস্ট ২০১৮, ২২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : সংগৃহীত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসড়ক ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক। ঈদসহ যে কোনো ছুটিতে এই মহাসড়কে তীব্র যানজট স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের চিত্র একেবারে ভিন্ন।

আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত এই মহাসড়কে কোনো যানজটের দেখা মেলেনি। ফলে ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি ছাড়াই যাতায়াত করছেন ঘরমুখো মানুষ। মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতেই পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করছে। মহাসড়কে যানজট নিরসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য কাজ করে চলেছেন।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস ও করটিয়া হাট বাইপাস এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে দেখা যায়, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।মহাসড়ক কখনো কখনো স্বাভাবিকের চেয়েও ফাঁকা দেখা গেছে।

জানা যায়, উত্তরবঙ্গসহ ২৩টি জেলার মানুষ এ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। বিগত কয়েক বছর যাবৎ মহাসড়কে চার লেন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। ফলে প্রায় প্রতিদিনই যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হতো সাধারণ যাত্রী ও গাড়ি চালকদের।

সাউথ এশিয়ান সাব রিজিওনাল ইকোনোমিক করপোরেশন (সাসেক) চার লেন প্রকল্পের কর্মকর্তা জিকরুল হাসান বলেন, ‘কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে গাজীপুরের ভোগড়া পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে গণভবন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মহাসড়কের ২৩টি ব্রিজ উদ্বোধন করেছেন। ফলে অন্য যে কোনোবারের থেকে এবার ঈদে মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরবেন বলে আশা করছি।’

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আজিজুর রহিম তালুকদার বলেন, ‘ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে যানজট নেই কিন্তু গাড়ির চাপ রয়েছে। মহাসড়ক প্রায়ই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী আলতাফ হোসেন নামের একজন বাসচালক বলেন, ‘মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। কোন দুর্ঘটনা না ঘটলে নির্দিষ্ট সময়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো।

ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসের যাত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘অত্যন্ত ভালোভাবেই এ পর্যন্ত এসেছি। রাস্তা খুবই ভালো। মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই এবার বাড়ি ফিরতে পারবেন।’

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। বর্তমানে ঈদ উপলক্ষে ২২ থেকে ২৫ হাজার যানবাহন পারাপার হচ্ছে। টোল আদায়েও সৃষ্টি হয়েছে রেকর্ড।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জিত কুমার রায় আমাদের সময়কে বলেন, এবার ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। যানজট নিরসনে ৭২৩ জন পুলিশ সদস্য এবং ২০০ আনসার সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। বিভিন্ন পয়েন্টে মোবাইল কোর্টসহ বিশেষ টহল ব্যবস্থা রয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে