প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় বি. চৌধুরী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৫২ | আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সাধারণত পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য দিতেই বেশি শোনা যায়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল ও সরকার প্রধানের প্রশংসা করতে তেমন একটা দেখা মেলে না।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় এমন বিরল ঘটনাই ঘটেছে। রাজধানীর গুলশানের অল কমিউিনিটি ক্লাবে প্ল্যাব-বি এর ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভায় বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটি গুণের কথা তুলে ধরেছেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ‘প্রজন্ম বাংলাদেশ’ একটি সংগঠন, যেই সংগঠনের চেয়ারম্যান তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী।

শুরুতেই মাহী জানিয়ে দেন, এই অনুষ্ঠানে কোনো ‘নেগেটিভ’ কথা চলবে না।

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক দর্শকের প্রশ্ন ছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কি কোনো পজেটিভ দিক নেই? উত্তরে বদরুদ্দাজা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। তারপর দেশে ফিরেছেন। দেশপ্রেম না থাকলে ফিরে আসতেন না। তার পিতার প্রতি যে অবিচার হয়েছে তার প্রতিকার তিনি করার চেষ্টা করেছেন। আওয়ামী লীগ অসংগঠিত একটি দল ছিল। দেশে ফিরে সেই দলকে সংগঠিত করেছেন- এটাও তার গুণ। আর হ্যাঁ, উনি ভালো ছড়া বলেন- এটা জানতাম না। গুণী মানুষ তিনি; ছড়া বলেছেন, ‘মান্না জুড়ে দেয় কান্না।’

বদরুদ্দোজা বলেন, ‘পত্রিকায় দেখেছি তার আরও একটা গুণ আছে। শুনেছি তিনি রান্না করেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে রান্না করা...। তাও ইলিশ ভাপি।’

এ সময় মাহী খালেদা জিয়ার গুণের কথা বলতে স্মরণ করিয়ে দিলে বি চৌধুরী বলেন, ‘উনি গৃহিনী ছিলেন। রাজনীতি ঢুকে অবদান রেখেছেন। তাকে স্বার্থত্যাগ করতে হয়েছে। কারাবরণ করেছেন; এটাও তার রাজনীতির অংশ।’

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘লিডারশিপ শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের মধ্যে নয়। লিডারশিপ সমাজের মধ্যে হতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সফলতা থাকতে হবে। সত্যনিষ্ঠতা থাকতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব লোভের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। গণতন্ত্রমনা হতে হবে। মানুষের যে অনুভূতি তা বোঝার ক্ষমতা যে রাজনীতিবিদের নেই তিনি সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিক নন।’

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বি চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না। ছাত্র-যুবকরা আন্দোলন করে সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছে ঠকবাজি চলবে না। আমাদের মেধার মূল্যায়ন করতে হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা কি দেখতে পাই। আজকে বাংলা ভাষা যে পৃথিবীতে সম্মানজনক অবস্থায় আছে তা কে এনে দিয়েছিল। বুড়া বুড়া নেতারা নয়, বড় বড় নেতারা নয়। এনেছিল ছাত্র যুবক। রাজনীতি থেকে দূরে যুবকরা থাকতে পারে না। সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন তাদের দেখাতেই হবে। যেখানে সন্ত্রাস থাকবে না, সেখানে স্বপ্ন থাকবে। সন্ত্রাসের জায়গায় আসবে শান্তি শব্দটি।’

জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর বর বলেন, ‘দলীয় শাসন না থাকলে হত্যা, গুম কিছুই হতো না। যতদিন পর্যন্ত দলীয় শাসন থাকবে এ থেকে আমরা মুক্তি পাবো না।’

আবদুর রব বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রেণি হচ্ছে তিনটা। বড় লোক, গরিব ও পেশাজীবী। পার্লামেন্টে এখন ভোট হয় দলের পক্ষ থেকে। পেশাজীবীদের পর্লামেন্টটা কোথায়? এদের প্রতিনিধি কোথায়? গরিব শ্রমিকের প্রতিনিধি কোথায়? অতএব এখানে দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট করতে হবে। নিচের পার্লামেন্টের আসনে থাকবেন বিভিন্ন রাজনীতিক দলের এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধি। আপার হাউজে থাকবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা-কর্মের পেশাজীবী প্রতিনিধি। একটা মানুষের দুটি ভোট থাকবে। দু’হাউজ সিস্টেম। প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠন হবে আপার হাউজ থেকে। প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থেকে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে যদি স্পিকার হয়, ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। এভাবে হতে হবে।’

বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন—  নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল মান্নান প্রমুখ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে