ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, এটা কি মামা বাড়ির আবদার?

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:০৫ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি যত চেষ্টাই করুক, সরকারকে সংবিধান বহির্ভূত কোনো দাবি মানাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, এটা কি মামা বাড়ির আবদার! তাহলে কাকে বসাব? দেশের দায়িত্বে কি ফখরুল সাহেব বসবে?’

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবিতে সারা দেশে আজ  বুধবার বিএনপির কর্মসূচি পালনের মধ্যে ঢাকার দক্ষিণের নগর ভবনে এক সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংবিধান থাকবে না দেশে? নিয়ম-কানুন থাকবে না দেশে? পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নির্বাচন যেভাবে হয়, বাংলাদেশেও নির্বাচন একইভাবে হবে। আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না।

বিএনপি নির্বাচনকালে নির্দলীয় সরকার গঠনের পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছে, যা বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এসব দাবিতে সরকারের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরে আসছেন বিএনপি নেতারা। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে নিউ ইয়র্ক রওনা হয়েছেন।

কাদের বলেন, ‘তারা তো জাতিসংঘে অবিরাম অভিযোগ দিয়েই যাচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে, নালিশ করছে। জাতিসংঘ কাউকে ডাকলে যাবে। কোনো সমস্যা থাকলে জাতিসংঘ জানতে পারে, কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। সংবিধান বহির্ভূত কোনো প্রেসারের কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই বলে আবারও জানিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের।

খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকাতে সরকার সক্রিয় বলে বিএনপির অভিযোগের জবাবে কাদের বলেন, ‘আদালতে ইতিপূর্বে অন্তত ৩০টি মামলায় জামিন দিয়েছে। আদালতে সরকার হস্তক্ষেপ করলে তিনি এতবার জামিন পেলেন কেমন করে?’

মামলা দীর্ঘায়িত করার জন্য বিএনপির আইনজীবীদের দায়ী করে কাদের বলেন, ‘তার মুক্তির জন্য এত আগ্রহ, এত সিরিয়াসনেস, তাহলে ১০ বছর কেন একটি মামলাকে প্রলম্বিত করেছেন? এই মামলাটি তো অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। এখন নির্বাচনের সময় পর্যন্ত গড়াত না। তিনি ১৫৪ দিন অনুপস্থিত থাকবেন, এই দায়িত্ব কে নেবে?’

নির্বাচনের সময়ে সংসদের কার্যপদ্ধতি নিয়ে কাদের বলেন, ‘সংসদের এই অধিবেশনের পরে আরেকটি অধিবেশন হবে, সম্ভবত অক্টোবরের মাঝামাঝি শেষ হবে। এর পর আর সংসদ বসবে না। পরবর্তী অধিবেশনই শেষ অধিবেশন।’

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘এরপর মন্ত্রীরা রুটিন ওয়ার্ক করবে, এমপিদের কোনো পাওয়ার থাকবে না। সংসদ আনু্ষ্ঠানিকভাবে ভাঙাও হবে না, সংসদের কোনো কার্যক্রমও থাকবে না। নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদ বসবেও না।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে