আওয়ামী সরকার রাষ্ট্রের অবৈধ কর্তৃপক্ষ : রিজভী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫৭ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারকে রাষ্ট্রের অবৈধ কর্তৃপক্ষ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। চক্রান্তমূলকভাবেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজ শুক্রবার বেলা এগারোটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘অসাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত বসিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় চায় রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রের অবৈধ কর্তৃপক্ষ আওয়ামী সরকার চক্রান্তমূলকভাবেই দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে সাজা দিয়েছে, সেটি আবারও প্রমাণ করলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।’

রিজভী বলেন, ‘গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে বলেছে "যেহেতু খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চাচ্ছেন না, তাই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করুন"। আদালতের কার্যক্রম শেষ করতে লিখিত আবেদনও দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।’

বিএনপি চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ, সে কথাটি আদালতকে তিনিই বলেছেন জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আদালত তো তার চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দিলেন না। কারণ সেই আদালত সরকারের হুকুমের বাইরে যেতে পারবেন কী না সেটি নিয়ে জনগণ সন্দেহ পোষণ করে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ জোর করে আদালতকে ব্যবহার করে বিচারকার্য ছাড়াই রায় দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের পরিপন্থী, অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। প্রতিহিংসার বিচার চরিতার্থ করতেই তাড়াহুড়ো করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই চাপ সরকারের নির্দেশেই হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, ‘যেখানে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ ছাড়তে হয়, সেখানে নিম্ন আদালত সরকারের চাপ প্রতিহত করে ন্যায় বিচার করতে পারবেন কী?’

রিজভী আরও বলেন, ‘আওয়ামী সরকার ভীরু ও কাপুরুষ, তাদের কোনো সাহস নেই। আছে শুধু ভয় ও আশঙ্কা। যদি সাহস থাকতো তবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করার জন্য নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেন।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার এখন হিতাহিত জ্ঞানশুন্য। যে কোনো মুহূর্তে পিছলে যাবার ভয়ে তারা পুলিশের ওপর নির্ভর করে মামলা হামলা ও গ্রেপ্তারের শৃঙ্খলে জনগণকে বন্দী করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। জনগণ মনের ক্ষোভ চেপে রাখতে অধৈর্য হয়ে উঠেছে, তাই সর্বত্র প্রতিবাদের সোচ্চার ধ্বণী উচ্চারিত হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো মুহূর্তে ধেয়ে আসা জনগণের ঘুর্ণিঝড় রুদ্ররুপ ধারণ করবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জনবিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে না।’

রিজভী আরও বলেন, ‘জনগণকে পুলিশের নিরাপত্তা দেয়ার কথা অথচ নিত্যদিনের পুলিশের আগ্রাসী অভিযানে দেশের মানুষের জানমাল নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। এদেশে বিদেশী মিশনের কূটনীতিকদেরও নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উপরও হামলা হয়েছে। কোথাও আওয়াজ শুনলেই সেখানে সরকারি হামলা ধেয়ে আসছে। পরোয়ানা, গ্রেপ্তার, হাজতবাস, নিষ্ঠুর বিচার এখন মানুষের নিয়তি। শুধু বিরোধী দল নয়, গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষকে এই সরকার অপরাধী বানাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে কুর্নিশ করতে হবে, কোনো সমালোচনা চলবে না, এর ব্যত্যয় হলেই তার ঠাঁই হবে কারাগারে। এই তুঘলকি শাসন এখন চলছে বাংলাদেশে।’

সংবাদ সম্মেনে রিজভী বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য মতে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে ৩ হাজারের অধিক। আসামি করা হয়েছে নামে-বেনামে প্রায় ৩ লাখ নেতাকর্মীকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৫০০ এর অধিক নেতাকর্মীকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করার সংবাদ পাওয়া গেছে।’

এ সময় মতিঝিল থানায় বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক এবং আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এবং পল্টন থানার একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালামসহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের প্রত্যাহারের দাবি জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে