ড্যাব মহাসচিবের অভিযোগ

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় আওয়ামীপন্থীদের দিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি

কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যেসব সিনিয়র পেশাদার রয়েছেন তাদের না রেখে গঠিত মেডিকেল বোর্ড আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের দিয়ে সরকার মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বস্তদের দিয়ে বোর্ড করার উদ্দেশ্য সরকারের কথা অনুযায়ী কাজ করবে।’

আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের এক আলোচনা সভায় জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উপদেষ্টা সাইদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সভাপতি সাইদুর রহমানের পরিচালনায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গত বৃহস্পতিবার কারাবন্দী খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী (ইন্টারনাল মেডিসিন), অধ্যাপক হারিসুল হক (কার্ডিওলজি), অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী (অর্থোপেডিক সার্জারি), সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলী (চক্ষু) ও সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদের (ফিজিক্যাল মেডিসিন) সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকারের ফরমায়েস অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। সিনিয়র চিকিৎসকরা যারা ভালো ট্রিটমেন্টের ব্যাপারে সাজেশন দিতে পারেন, পরীক্ষা করে দেখতে পারেন তাদেরকে দিয়ে করা হয় নাই। খুঁজে খুঁজে তাদের যারা বিশ্বস্ত, তাদের কথায় কাজ করবে তাদের দিয়ে করা হয়েছে।’

গঠিত বোর্ডের চিকিৎসকদের পেশাগত দিকটা তুলে ধরে জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘কার্ডিওলজিতে এমন একজনকে নিয়েছে যার শুধুমাত্র পরিচয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ, ভালো কার্ডিওলজিস্ট। স্বাচিক (স্বাধীনতা চিকিৎসক  ফোরাম ক্ষমতাসীন দলের চিকিৎসক সংগঠন) করেন। কার্ডিওলজী বিভাগে প্রফেসর আছে পাঁচ জন, তাদেরকে করেনি হারিসুলকে করেছে। অর্থোপেডিক্সের আবু জাফর চৌধুরীকে করেছে। এই বিভাগে প্রফেসর আছেন দুই জন তাদেরকে বোর্ডের সদস্য করা হয়নি। চক্ষুবিভাগে প্রফেসর আছেন তিনজন। তাদের কাউকে না করে একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরকে করেছে। তিনি কোনো একটা উপ-কমিটির মেস্বার। আবার ফিজিক্যাল মেডিসিনে একজন নারী চিকিৎসককে করেছে তার উপরে ছয় জন প্রফেসর আছেন, দুই নারী অধ্যাপকও আছেন। তাদের করা হয় নাই। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা সরকারের বিশ্বস্ত।’

ড্যাব মহাসচিব আরও বলেন,আইজি প্রিজন যদি চিঠি দিয়ে থাকেন আপনি একটা মেডিকেল বোর্ড করেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব ছিল বিভাগের সিনিয়র প্রফেসরদের দিয়ে মেডিকেল বোর্ড করা। কিন্তু ওই যে উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া যিনি দীলিপ বড়ুয়ার ছোট ভাই এবং তাদের নিজস্ব লোক। তাদের ফরমায়েস অনুযায়ী তিনি মেডিকেল বোর্ড করেছেন। এখানে প্রফেশনালিজম কী থাকল? আমরা আশা করব, চিকিৎসকের আইডেন্টিটি হবে চিকিৎসক। তিনি কোন দল করেন সেটা আমরা দেখব না। চিকিৎসকের কাছে বড় পরিচয় উনি একজন রোগী, আমি একজন ডাক্তার। এ অবস্থা চলতে পারে না।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে