স্বামীর নির্যাতনে মারা গেলেন শম্পা!

  ইউসুফ সোহেল

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২১ | আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের ৮ নম্বর বাঁশচড়া ইউনিয়নের ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান শম্পা। গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই ওই গৃহবধু লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। শম্পার বাবা মো. খোকা মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, শম্পার স্বামী ফারুক হোসেন, ফারুকের মা মোসা. সমস্ত বেগম, বাবা আবদুল হক ও বোন জামাই মো. রফিকুল ইসলাম। পুলিশ অভিযুক্ত ফারুককে গ্রেপ্তার করলেও ঘটনার পর থেকে বাকি তিনজন পলাতক রয়েছেন।

শম্পার ভাগ্নে পলাশ আমাদের সময়কে জানান, চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে শম্পা ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা খোকা মিয়া পেশায় কৃষক। পারিবারিকভাবে মাত্র চার মাস আগে ফারুক হোসেনের সঙ্গে শম্পার বিয়ে হয়। আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না হলেও মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিয়েতে ফারুকের হাতে যৌতুকের সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন খোকা মিয়া। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই ফের যৌতুকের দাবিতে শম্পাকে নির্যাতন করতে থাকেন শ্বশুড়বাড়ির লোকজন।

শম্পার স্বামী ফারুকের দাবি, বিয়ের কিছুদিন তারা ভালোই ছিলেন। মাস না যেতেই শম্পার মধ্যে তিনি পরিবর্তন দেখতে পান। সংসারে অমনোযোগী ছিলেন শম্পা। এমন কী বাবার বাড়ি গেলে ফিরতে চাইতেন না। এসব নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাগের মাথায় তিনি এক মিনিটের মতো শম্পার গলা টিপে ধরেছিলেন। এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে যান ফারুক। পরে বাসায় ফিরে শম্পাকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে জামালপুরের নান্দিনা হাসপাতালে নেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে ফারুকই শম্পাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

শম্পার বাবা খোকা মিয়ার অভিযোগ, যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত রোববার দুপুরে ফারুকসহ অন্য আসামিরা শম্পাকে বেধরক পিটুনি দেয়। একপর্যায়ে তার গলা টিপে ধরে। এমন কী ওড়না দিয়ে ফাঁস দেয় তারা। শম্পা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ঘর থেকে তুলে এনে উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শম্পাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন খোকা মিয়া।

শুক্রবার রাতে জামালপুরের চরগজারিয়া ৩ নম্বর লক্ষিরচর ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে শম্পার লাশ দাফন করা হয়েছে। মেয়ের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন খোকা মিয়া।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিমুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ‘এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামী অভিযুক্ত ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে