এক মাসের মধ্যেই দেশে অনেক পরিবর্তন আসবে : মওদুদ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৫৫ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

এক মাসের মধ্যেই দেশে অনেক পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, আর মাত্র একমাস আছে। এই একমাসের মধ্যে অনেক কিছুর বাংলাদেশে পরিবর্তন আসবে। তারা (ক্ষমতাসীন) যে নির্বাচনকালীন সরকারের কথাবার্তা বলেছে, আসলে নির্বাচনকালীন সরকার বলতে সংবিধানে কিছু নেই। তাদের নিজেদের খেয়াল খুশিমতো করবে। আসলে ওই নির্বাচনকালীন সরকারে তারাই থাকবে।

দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণে সংবিধানের বাইরে গিয়েই নির্বাচকালীন নিদর্লীয় সরকার গঠনে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার : বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব আসম মোস্তফা কামালের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমীন, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‌‘আমরা নির্বাচনে যে রূপরেখা দেবো নির্বাচনকালীন সরকারের জন্যে। তার ওপর ভিত্তি করে আজকে সমস্ত জাতির ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ছাড়া বাংলাদেশে সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যমতে পৌঁছেছে, আগামী নির্বাচন হবে একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এটা যদি সংবিধান থেকে বেরিয়ে এসে করা হয় তাতে কোনো অসুবিধা নাই। সংবিধান কোনো বাধা নয়। সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। আমরা এই ব্যবস্থাকে আবার বৈধ্যতা দিতে পারবো আগামী সংসদে নির্বাচনের পর পরবর্তি সংশোধনী এনে।’

১৯৯১ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে যেভাবে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়েছিল সংবিধানের কোথাও তা ছিলো না। একই ভাবে এখন আবার দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য, কল্যাণের জন্য, দেশের সকল মানুষের স্বার্থের জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশে একটা সুস্থ পরিবেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যদি প্রয়োজনে সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেটাকে আগামী সংসদ সংশোধনী আকারে সেটাকে বৈধ্যতা দেবে। এটা অতীতে অনেক হয়ে এসছে, ’৯১ সালেও একই হয়েছে।

সরকারি চাকরির কোটা প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয়  শ্রেণির জন্য কোটা থাকবে না। আমরা কোথায় মেধার পরিচয়  পেতে চাই-প্রশাসনের উচ্চপদে থাকেন, যারা প্রশাসন পরিচালনা করেন। কোটা আন্দোলনকারীরা সরকারি সকল চাকরির কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছিল। আজকে যে রিপোর্ট বেরিয়েছে এই ধরনের সংস্কার তারা চায়নি। এটা একটা প্রতারণা। কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটা বিশ্বাসঘাকতার পরিচয় দিয়েছে। এটা পূর্ণবিবেচনা করা উচিত। কোটা আন্দোলকারীদের প্রতি আমাদের সহানুভুতি আছে। তাদের আন্দোলন বৃথা যাবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার ছলচাতুরি করছে বলে অভিযোগ করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন,  বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। সরকার একটি মেডিকেল বোর্ড করেছে। এই বোর্ড গঠনটা প্রতারনা ছাড়া আর কিছু না। পাঁচজন সদস্যের মধ্যে একজন আছেন বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজন একেবারে তরুণ, তারা আওয়ামী লীগ করেন, তারা শুধু পদ-পদবীতেই নয় তারা আওয়ামী লীগের অ্যাক্টিভিস্ট।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বলছে, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করার যেতে পারে। যদি ঝুঁকিপূর্ণ না হয় উনি হাসপাতালে যাবেন কেন? সরকার তার স্বাস্থ্য নিয়ে যে ছলচাতুরি করছে। এই মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে