প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী কোটা রাখার পক্ষে মেনন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৮ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

সরকারি চাকরিতে ১ম ও ২য় শ্রেণির নিয়োগে প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী কোটা রাখার পক্ষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে সুইড কমভেনশন সেন্টারে ‘প্রতিবন্ধী নারী অধিকারবিষয়ক সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মত দেন।

মেনন বলেন, ‌‘বর্তমান সরকারের চলমান এসডিজি কর্মসূচির অন্যতম বার্তা হচ্ছে কাউকেই পিছনে ফেলে রাখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রায় ১৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে পিছনে ফেলে রেখে আমরা উন্নয়নের উচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারব না। প্রতিবন্ধীরা আমাদের দেশেরই সন্তান। আমাদেরই কারো না কারো ভাই-বোন বা আত্মীয়। সুতরাং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আমাদের নানাবিধ দায়িত্ব রয়েছে।’

তিনি বলেন, চলমান কোটা সংস্কার প্রক্রিয়ায় ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে সকল কোটা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে অসহায় প্রতিবন্ধী ও আদিবাসীদের জন্য সম্পূর্ণকোটা তুলে নেওয়ার সময় এখনো হয়নি। কারণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেও কেবল শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণেই ভাইভা থেকে বাদ পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কোটা রাখা গেলে এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের এগিয়ে যেতে সহায়ক হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া প্রসঙ্গে মেনন বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সারা দেশে ১০৩ টি প্রতিবন্ধী সহায়তা কেন্দ্র করা হয়েছে। হুইল চেয়ার, সাদা ছড়ি অনেকটা বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী প্রতিবন্ধীদের জন্য থেরাপী সেন্টার, অটিজম রিসোর্স সেন্টার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাভারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুল ফর অটিজম ঢাকায় ৪টি সহ সারা দেশে মোট ১১টি স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩২টি মোবাইল থেরাপী ভ্যান বর্তমানে ৬৪ টি জেলায় চলমান রয়েছে।
ঢাকার টঙ্গীতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাধ্যমে মুক্তা পানি নামে স্বচ্চ পানি উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই মুক্তা পানি লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। মুক্তাপানি বিক্রির লভ্যাংশের পুরো অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্যয় করা হচ্ছে।

অস্বছল প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের নানা ধরনের ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে মেনন বলেন, ‘২০০৮-০৯ অর্থবছরে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা খাতে জন প্রতি মাসিক ২৫০ টাকা হারে ২ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু মাসিক ৭০০ টাকা হারে ১০ লাখ জনের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। বিগত ১০ বছরে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা খাতে ৩২৬৭.৬১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি খাতে ১৩ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ লক্ষ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেট হয়েছে ৮০ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। বিগত ১০ বছরে (২০০৯-১৮) প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি খাতে ১১৭১.৫৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান সরকার যতটা আন্তরিক তা এ যাবৎকালে অন্য কোনো সরকার কখনই ছিল না।

উইমেন উইথ ডিসএবিলিটিস ডেভেলাপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, প্রতিবন্ধী বিষয়ক চিন্তাবিদ জুলিয়ান ফ্রান্সিস, নিজেরা করি এর নির্বাহী পরিচালক খুশি কবির, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা-মিন-আরা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম প্রমুখ।


                                                                                                

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে