পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় পিটুনি, হাসপাতালে গৃহবধূ

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় শাহানাজ বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আবুল বাশার হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার তালতলী উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে তালতলী উপজেলার বড় ভাইজোড়া গ্রামের মো. আলম হাওলাদারের মেয়ে শাহানাজের সঙ্গে একই উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে আবুলের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় শ্বশুর বাড়ি থেকে জামাতাকে নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীন আসবাবপত্র দিয়ে দেয়।

দাম্পত্য জীবন ভালোই কাটছিল। বিয়ের দুবছরের মধ্যে তাদের বুশরা (২) নামে এক মেয়ে সন্তানও জন্ম নেয়। পরে আবুল পাশ্ববর্তী লাউপাড়া গ্রামের এক বিধবা নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হয়।

রোববার দুপুরেও আবুল মোবাইল ফোনে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এ সময় শাহানাজ আড়াল থেকে স্বামীর কথা শুনতে পেয়ে এর প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল ও তার বোন মাহমুদা শাহানাজকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলেও আবুল স্ত্রীর ওপর নির্যাতন বন্ধ করেনি। এক পর্যায়ে শাহানাজ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায়ও সে তাকে (শাহানাজ) ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পরে প্রতিবেশীরা শাহনাজের বাবার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত শাহানাজকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আলহাজ্ব মো. হারুন অর রশিদ বলেন, শাহানাজের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ফুলা ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।

আহত শাহানাজ বেগম বলেন,‌ ‘আমার স্বামী একজন বিধবা মহিলার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমার স্বামী ও ননদ মাহমুদা আমাকে বেদম মারধর করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গসহ স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়েছে বলেও জানায় শাহানাজ।

এ বিষয়ে স্বামী আবুল মুঠোফোনে পরকীয়া সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে বলেন, স্ত্রীকে সামান্য মারধর করেছি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে