সিনহার অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা

ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ৬ কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৪২ | আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ছয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির নামে হস্তান্তর দেখিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দুদক কার্যালয়ে হাজির হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

ছয় কর্মকর্তা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ম্যানেজার অপারেশন, লুৎফুল হক, ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজী সালাউদ্দিন, অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ ও এক্সিকিউটিভ অফিসার উম্মে সালমা সুলতানা।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার পাঠানো দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আজ তাদের হাজির হতে বলা হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি টাকা স্থানান্তরের কাজে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাদের তলব করা হয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, এসকে সিনহার উত্তরার ৬ তলা বাড়িটি ৫ কাঠা জমির ওপর ছিল। বাড়িটি ২০১৬ সালের শুরুর দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্ত্রি রায় ৬ কোটি টাকায় ক্রয় করেন। এ সময় বায়না দলিলকালে তিনি ২ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য নিরঞ্জন ও শাহজাহানের সহযোগিতা নেন। নিরঞ্জনচন্দ্র সাহা শান্ত্রি রায়ের স্বামী রণজিতের চাচা। আর শাহজাহান রণজিতের বন্ধু।

তারা বলেন, বাড়ি কিনতে বাকি ৪ কোটি টাকা ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে নিরঞ্জন ও শাহজাহান ২ কোটি টাকা করে মোট ৪ কোটি টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শান্ত্রি রায় জামিনদার হন। জামিনদার হিসেবে টাঙ্গাইল ও ঢাকার আশপাশের বেশকিছু জমি বন্ধক রাখেন শান্ত্রি।

তাদের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে জমির বায়না দলিল হয় এবং ওই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এসকে সিনহা সোনালী ব্যাংক সুপ্রিমকোর্ট শাখা হতে ৪ কোটি টাকা গ্রহণ করে। পে-অর্ডারের পর ২৪ নভেম্বর হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি শান্ত্রি রায়কে বুঝিয়ে দেন।

এসকে সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা স্থানান্তরের অভিযোগে এর আগে গত ৬ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওইদিন তাদের সঙ্গে আসা তাদের দুই আইনজীবী আফাজ মাহমুদ রুবেল এবং নাজমুল আলম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এসকে সিনহাকে তার বাড়ি বিক্রির ৪ কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে