হিন্দু ছাত্রীদের জন্য গরুর মাংসের বিরিয়ানি, প্রধান শিক্ষক আটক

  নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৫ | আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার সদর উপজেলার পীরগাছা এএফ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীদের গরুর মাংসের বিরিয়ানি খাওয়ানোর অভিযোগে ওই এলাকার হিন্দু নারী-পুরুষরা বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে।

এ ঘটনায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নানকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে বগুড়া সদর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

বগুড়া সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার রায় জানান, শনিবার পীরগাছা এএফ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ নুরুল ইসলাম ওমরকে সংবর্ধনা ও মা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে গরুর মাংস দিয়ে রান্না করা বিরিয়ানির প্যাকেট ছাত্রীদের জন্য এবং অভিভাবকদের জন্য নাস্তার প্যাকেট সরবরাহ করা হয়। সন্ধ্যার পর এলাকায় জানাজানি হয় যে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্রীদেরকেও গরুর মাংসের বিরিয়ানির প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার রাত থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আশীষ কুমার রায় আরও জানান, রোববার সকালে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৪২ জন ছাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ বিদ্যালয় ঘেরাও করে। এ সময় প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রধান শিক্ষককে আটকের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে।

খবর পেয়ে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

এ সময় প্রধান শিক্ষক উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে গরুর মাংসের বিরিয়ানি সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেন। পরে জনগণের দাবির মুখে প্রধান শিক্ষক আবদুল  হান্নানকে পুলিশ আটক করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গরুর মাংস দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক তাকে জানাননি। ছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য ৮০০ প্যাকেট নাস্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।’

বগুড়া সদর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার রায় বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ দায় এড়াতে পারেন না। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রতিটি ক্লাস থেকে প্রধান শিক্ষক ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা তুলেছেন। সে বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জানেন।’

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দিলীপ কুমার দেব বলেন, ‘স্কুলের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই প্রধান শিক্ষক গরুর মাংস দিয়ে খাবার রান্না করতেন। এ বিষয়ে হিন্দু অভিভাবকরা তাকে বলেছিলেন মুরগির মাংস দিয়ে খাবার তৈরি করার জন্য, কিন্তু তিনি শোনেননি। তারপরও এ ঘটনা ঘটাতে হিন্দু অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।’

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা হবে। আটকের পর প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেছেন, তিনি সাত কেজি গরুর মাংস কিনেছিলেন। হিন্দু ছাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা ছিল না।’

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে