sara

বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতেই ‘স্টেট স্পন্সরড’ রায়, অভিযোগ বিএনপির

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৫০ | আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি

বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলায় ‘স্টেট স্পনসর্ড’ রায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের জবাবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

রিজভী বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নেতৃত্বশূন্য করতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। গতকাল আমরা রায়ের মধ্যে কিছু পর্যবেক্ষণ দেখেছি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নানা কথা, নানা উল্লাস আমরা দেখছি। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গতকাল যে সাজা দেয়া হয়েছে তা স্টেট স্পন্সরড জাজমেন্ট। বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য, বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সরকারের বিশেষ ব্যক্তির মনোবাঞ্ছনা পূরণেই এই রায় দেয়া হয়েছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ জন্য যে, এক তরফা নির্বাচন করার জন্য এটি একটি কারসাজি। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে কী নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল সে নিয়ে আমরা অনেকবার আপনাদের বলেছি।’

রিজভী বলেন, ‘হাত-পায়ের নখ তুলে নিয়ে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ জবাববন্দি নেয়া হয়েছিল ফুজি নেতা মুফতি হান্নানের কাছ থেকে। মুফতি হান্নান নিজে আদালতের কাছে স্বাকারোক্তিমূলক জবাববন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডির লিখিত কাগজে তার সই আদায় করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন আমলে নেয়নি। কেন? এটি এক বিরাট প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘হাতের লেখার ১০ পৃষ্ঠার প্রত্যাহারের আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর তাকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল। মুফতি হান্নান প্রত্যাহারের আবেদনে বলেছিলেন এই ২১ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনা জনাব তারেক রহমান ও বিএনপির কেউ জড়িত নয়।”

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘তাহলে এই প্রত্যাহারের যে আবেদন তাকে আমলে না নিয়ে কারো ইচ্ছা পূরণের যে রায়টা হলো- এটা কী ন্যায় বিচার। এটা কী বিরোধী দল ধ্বংসের রায় নয়? জনগন এই রায় প্রত্যাখান করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে গতকাল ঢাকা মহানগর, নেত্রকোনা, মাদারীপুর, বরিশাল, ফরিদপুর, গাইবান্ধা, ভোলা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ‘গায়েবী’ মামলায় দলের শতাধিক নেতা-কর্মীর গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জিয়াউর রহমান খান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির খান, ফরিদা ইয়াসমীন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে