ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : সংগৃহীত

প্রশ্নফাঁসে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের মনগড়া প্রশ্ন তৈরির মাধ্যমে এতদিন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় শতভাগ কমনের নিশ্চয়তা দিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন তারা। ভুয়া সেই প্রশ্নপত্রের প্রলোভন ও সরবরাহ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়েও নিয়েছে চক্রটি। অবশেষে ডিজিটাল এই প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম টিম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, কাউসার গাজী, সোহেল মিয়া, তারিকুল ইসলাম শোভন, রুবাইয়াত তানভির (আদিত্য) ও মাসুদুর রহমান ইমন।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয়, প্রতারণায় ব্যবহৃত পাঁচটি মুঠোফোন ফোন, দুইটি ল্যাপটপ ও বিকাশের রেজিস্টার বই। বুধবার ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। সারা দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এটিই প্রথম মামলা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম।

এদিকে গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তিদের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের (উপপরিদর্শক) শিব্বির আহমেদ তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সত্যব্রত শিকদার প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন।

নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিলটি গত ২০ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয়। এরপর গত ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিলটিতে সম্মতি দেন। সেদিন থেকে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়।

প্রশ্ন ফাঁসকারী প্রতারক চক্রের মূলহোতা কাউসার গাজীর বরাত দিয়ে মোল্যা নজরুল জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজ করত চক্রটি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে প্রশ্নফাঁস প্রতারক চক্রের এই সদস্যরা কোনঠাসা হয়ে পরেছিল। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে না পারায় চক্রটি ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে, মেডিকেলের প্রশ্ন পাওয়া যায় বলে প্রচারণা চালাত এবং শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে সেগুলো বিক্রি করত। বিভিন্ন সাজেশন বই ও বিগত বছরগুলোর মেডিকেলের প্রশ্নপত্র একত্রে মিলিয়ে তারা নিজেদের মতো করে প্রশ্ন তৈরি করে। পরে ফেসবুকে বিভিন্ন ভুয়া আইডি ও মেসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করত। ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে এ পর্যন্ত ১০টি ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মেডিকেলের প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল তারা।

মোল্যা নজরুল আরও জানান, মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে এ কাজে সহযোগিতা করতেন তার বন্ধু সোহেল মিয়া। তিনি অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা লেনদেন করতেন। গ্রেপ্তার শোভন ‘সুমন মাহামুদ১৭’ নামে ফেসবুকের আইডি খুলে মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে দিতে পারবে বলে প্রচারণা চালাতেন। তার এই ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করতেন এবং বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা দিয়ে প্রতারিত হতো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকেরা।

ফেসবুকে ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রচারণা চালানোর অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কাজলাপার, দনিয়া, যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে দুটি মুঠোফোন ও একটি বিকাশ রেজিস্টারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাত ৯টার দিকে বাড্ডার আলিফনগর এলাকা থেকে তিনটি মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপসহ গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরও তিন সদস্যকে। রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চক্রটির বিস্তারিত এবং তারা এ পর্যন্ত কতো টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে তা জানা যাবে। 
আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা। সেখানেও যদি কোনো চক্র প্রশ্নফাঁস করতে চায় তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান। 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে