দেশে প্রতিদিন আত্মহত্যা করে ২৮ জন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:১৫ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০১:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে বছরে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে আত্মহত্যা করে ২৮ জন। বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে, আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ৫৮ থেকে ৭৩ শতাংশ হচ্ছে নারী। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে মিডিয়ার প্রবনতা রয়েছে। দায়িত্বশীল রিপোর্টিং আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘গণমাধ্যমে আত্মহত্যা বিষয়ক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (এনআইএমএইচ) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মোহিত কামাল বলেন, ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে আত্মহত্যার সংবাদ কী ধরনের হওয়া উচিত, তার একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সব গণমাধ্যম এই গাইডলাইন মেনে চললে আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করা হবে।’

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৬৫ লাখ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে, যাদের বেশি ভাগই অল্পবয়সী এবং ৮৯ শতাংশ নারী। বাংলাদেশে প্রতি লাখে আত্মহত্যার হার ৭ দশমিক ৮ জন। প্রতি লাখে পুরুষের হার ৬ দশমিক ৮ এবং নারীর হার ৮ দশমিক ৭ জন। ২০১২ সালে বাংলাদেশে ১০ হাজার ১৬৭ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। এর মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৩৯৪ জন এবং নারী ৫ হাজার ৭৭৩ জন। বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে মোট আত্মহত্যার মধ্যে ৫৮ থেকে ৭৩ শতাংশ হচ্ছে নারী।’

আত্মহত্যার কারণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মানসিক অসুস্থতা, যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, দাম্পত্য কলহ, প্রেম ও বিবাহবহির্ভূত সর্ম্পক, উত্যক্তকরণ, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, লোকলজ্জার ভয়, প্রেম ও পরকীয়া, দ্রুত নগরায়ন ও পরিবারতন্ত্রের বিলুপ্তি, নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধ পরবর্তী আত্মহত্যা, অপরকে অনুকরণ করে আত্মহত্যা।’ 
আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্পর্কে হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মহত্যার উপকরণের সহজপ্রাপ্তি হ্রাস, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ সহায়তা প্রদান, সামাজিক বন্ধন দৃঢ়করণ, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসন, মানসিক রোগ সনাক্ত ও চিকিৎসা কুসংস্কার, নারীর ক্ষমতায়ন, সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রানে হেলপ লাইন চালু করতে হবে।  

ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আত্মহত্যার ক্ষেত্রে মিডিয়ার প্রবণতা রয়েছে। আত্মহত্যার সংবাদ কেমন হওয়া উচিত তার একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গাইড লাইন অনুযায়ী, আত্মহত্যার সংবাদটি প্রথম পৃষ্ঠায় বা অন্যত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রকাশ করা যাবে না। শিরোনামে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়, যা পাঠককে উদ্দীপনার খোরাক জোগায়। শিরোনাম সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। শিরোনামে যেন এমন বার্তা না থাকে, যাতে মনে হয় আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান। আত্মহত্যার বিবরণ না দেওয়া, কোনো ছবি বা ফুটেজ যেন প্রকাশিত না করা, আত্মহত্যার সুইসাইড নোট প্রকাশ না করা, সেলিব্রেটিদের আত্মহত্যার খবর দ্বিগুণ সতর্কতার সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।’

কর্মশালায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কান্ট্রি অফিস ঢাকার ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট হাসিনা মমতাজ বক্তব্য দেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে