নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ‌‌‘যথার্থই’ করেছেন মাহবুব তালুকদার : রিজভী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:১৭ | আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি
নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সভা বর্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, যারা একপক্ষীয় নির্বাচনের অনুষঙ্গ যারা হতে চান না জনগণ তাদের পাশেই থাকবে।

আজ সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, 'যদি নির্বাচন কমিশনের কোনো কোনো কর্মকর্তা উৎসাহী হয়ে থাকেন, সেখানে যদি কেউ নোট অব ডিসেন্ট দেন তবে সেখানে অবশ্যই সব মানুষের সমর্থন থাকবে। তিনি (মাহবুব তালুকদার) যথার্থই করেছেন। কারণ নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর আগে যে আচরণ করেছেন, তিনি কারো কথা শোনেন না, তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে বার্তা আসে সেটাই তিনি শোনেন।'

রিজভী বলেন, 'আজকে এতগুলো রাজনৈতিক দল, এমনকি সরকারের অঙ্গীভূত মহাজোটেরও কিছু দল ইভিএম এর বিরোধিতা করেছে। নাগরিক সমাজ বিরোধিতা করেছে, সাংবাদিকদের যে প্রতিনিধি দল গেছে, তারাও বিরোধিতা করেছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান বলেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার চান (ইভিএম)।'

তিনি আরও বলেন, 'যাদের বিবেক আছে, যাদের কমনসেন্স অনেক স্ট্রং তারা তো এর বিরোধিতা করবেই। কারণ নির্বাচন কমিশনের সংবিধান স্বীকৃত কিছু স্বাধীনতা রয়েছে। সে স্বাধীনতা অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু যখন দেখা যায় নির্বাচন কমিশনের কিছু কিছু কর্মকর্তা সেই স্বাধীনতাকে ভোগ না করে নিজেদের আত্মাকে সরকারের কাছে বিক্রি করে দেন, সেখানে কিছু কিছু লোক তো বিরোধিতা করবেই।'

সংবাদ সম্মেলনে ইভিএম কেনার নামে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইভিএম পদ্ধতি কেন চালু করতে চাচ্ছেন, সেই থলের বিড়ালটি এখন বেরিয়ে পড়ছে। ভারতের চেয়েও ১১ গুণ বেশি দামে ইভিএম কেনার উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভোটের আগে বেশ বড় পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া।'

এ সময় অনেক কর্মকর্তা কমিশনের নিরপেক্ষতা ভেঙ্গে সরাসরি সরকারের দুস্কর্মের সঙ্গী হতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

রোববার মাওয়া ও শিবচরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আজগুবি, উদ্ভট, স্ববিরোধী নানা কথা জাতিকে হতবাকই করেনি, মানুষ মুচকি হেসেছেও। আসলে তিনি তার বক্তব্যে নিজ দলের অনাচারগুলো অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।'

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বেশ কিছু প্রশ্ন রাখেন রিজভী। প্রধানমন্ত্রীকে শান্তির দূত, মানবতার জননী, আইনের শাসনের সরকারের প্রধান,মাদার অব তেরেসা, গণতন্ত্রের মানসকন্যা কেন বলতে হবে তাও জানতে চান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দূর্গাপুজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানান রিজভী। একই সঙ্গে দলের আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির জোর দাবি জানান তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে