বাসচাপায় ২ শিক্ষার্থী নিহত

বাসের মালিকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের শুনানি ২২ অক্টোবর

  আদালত প্রতিবেদক

১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের মামলায় ওই বাসের মালিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের শুনানি আগামী ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েস এ শুনানি গ্রহণ করবেন।

মামলার দুই আসামি পলাতক রয়েছেন জানিয়ে গত ৭ অক্টোবর পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এ কারণে সিএমএম আদালত মামলাটি দায়রা আদালতে বদলির আদেশ দেন। সে অনুযায়ী দায়রা আদালত আগামী ২২ অক্টোবর চার্জগঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

মামলার আসামিরা হলেন- জাবালে নূর বাসের মালিক মো. শাহদাত হোসেন আকন্দ (৬০), চালক মাসুম বিল্লাহ (৩০), চালকের সহকারী  মো. এনায়েত হোসেন (৩৮) ও চালক মো. জোবায়ের সুমন (৩৬) এবং বাস মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও সহকারী মো. আসাদ কাজী (৪৫)। আসামিদের মধ্যে শেষের দুজন পলাতক রয়েছেন। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশ উত্তর ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর কাজী শরীফুল ইসলাম।

চার্জশিটের ধারাগুলোর মধ্যে ৩০৪ ধারার খুন বলে গণ্য নয় এরূপ দণ্ডনীয় নরহত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। চার্জশিটে বলা হয়, গত ২৯ জুলাই সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আগারগাঁও তালতলা থেকে আব্দুল্লাহপুরের উদ্দেশে বাসটি (ঢাকা মেট্টো ব- ১১- ৯২৯৭) ছেড়ে আসে এবং বাসটি (ঢাকা মেট্টো- ব ১১-৭৬৫৭) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এবং বাসটি (ঢাকা মেট্টো- ব ১১-৭৫৮০) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মিরপুর আনসার ক্যাম্প থেকে বাড্ডা নতুন বাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

বাসগুলো ক্যান্টনমেন্ট থানার ইবি চত্বরে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে একত্রিত হওয়ার পর একটি বাস (ঢাকা মেট্টো- ব ১১-৭৫৮০) পেছনে পড়ে যায়। অপর বাস দুটি পাল্লাপাল্লি ও রেষারেষি করে বেশি যাত্রী ও বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চালাতে শুরু করে। তারা জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ঢাল থেকে প্রতিদিনের মতো অপেক্ষায় থাকা যাত্রী ওঠানোর জন্য রেষারেষি অব্যাহত রাখে। ওই কারণে বাস দুটি একে অপরকে চারবার অভারটেকিং করে। বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণে আসামি মাসুমের চালিত বাস ফ্লাইওভারে ঢালে রেলিং ও ওয়ালের সাথে ঘষা বা আঘাত লাগায়। ওই সময় যাত্রীরা বাসটি সাবধানে চালানোর জন্য চালক ও তার সহকারী অনুরোধ ও ডাক চিৎকার করে। দ্রুত বেপরোয়া বাস চালানোর জন্য তাতে কেউ গুরুতর যখম ও মারা যেতে পারে তা জেনেও তারা দ্রুত বেপরোয়া গতিতে বাস চালাইতে থাকে। একপর্যায়ে আসামি জোবায়েরের চালিত বাসটি (ঢাকা মেট্টো- ব ১১-৭৬৫৭) মাসুম বিল্লাহ চালিত বাসটি (ঢাকা মেট্টো- ব ১১-৯২৯৭) পেছনে ফেলে ফ্লাইওভারের ঢালের সামনে রাস্তার উপর দাঁড়ায়ে ডান দিকে রাস্তা ব্লক করে যাত্রী ওঠাতে থাকেন।

মুহূর্তের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ চালিত বাসটি ডান দিক দিয়ে যেতে না পেরে স্বেচ্ছাকৃতভাবে বাম দিকে দিয়ে গিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষমান শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪ থেকে ১৫ জন ছাত্র ছাত্রীর ওপর ১১টা ৩০ ঘটিকার সময় তুলে দেয়, যার কারণে ১৩ থেকে ১৪ জন ছাত্র-ছাত্রী গুরুত্বর আহত হয়।

তাদের মধ্যে ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব মারা যায়। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন গুরুত্বর আহত হয়। গত ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম এ মামলা দায়ের করেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে