আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আগেই লেখা হয়ে আছে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩২ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : ফোকাস বাংলা

জিয়া দাতব্য (চ্যারিটেবল) ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আগেই লেখা হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা বানানো মামলায় আজ কারাগারে। আগামী ২৯ অক্টোবর রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯ তারিখ কেন? তারা চাইলে কালকে দিতে পারেন। রায় তো আগেই লেখা হয়ে আছে।’

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে সংগঠনের সাবেক সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম এ হাদীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

নজরুল বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেবকে যে বিচারক (মোতাহার হোসেন) বিচারিক আদালতে খালাস দিয়েছিলেন এটা ইউটিউবে তার বক্তব্য শুনলাম যে, কীভাবে রায় লিখে নিয়ে আসা হয়েছে। আর আমাদের সাবেক প্রধান বিচারপতি (এসকে সিনহা) যে বক্তব্য শুননাল ফেসবুকে- কীভাবে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে- এসব জানার পরে সুবিচারের প্রত্যাশা করাও একধরনের বোকামি।’

ব্যাংকিংখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাজার হাজার অর্থ লুণ্ঠনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একটা পর একটা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে তার কোনোটারই বিচার হয়নি।  রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে থেকে অর্থ লুট হয়ে গেল, কোনো বিচার নেই। এই লুণ্ঠনের বিচার দ্রুত করার আগ্রহ সরকারের নেই। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্রের তিন কোটি টাকার অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা দ্রুততর করা হয়েছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘দেশনেত্রী অসুস্থ। এই কারণে কারাকর্তৃপক্ষ, হাসপাতালের চিকিৎসক বোর্ডের সুপারিশে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আদালতে যাওয়ার তার সমর্থ নেই। সরকারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছে তার অনুপস্থিতিতে বিচার হবে। সেই মামলার রায় ২৯ তারিখ দেওয়া হবে।’

নজরুল বলেন, ‘এই অবস্থা আর চলতে পারে না। এমন একটা বাংলাদেশের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। সেই প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। আসুন, এই অবস্থার পরিবর্তনে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের কাছে যাই, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করি।’

সংগঠনের সহসভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডা. বজলুল গনি ভুঁইয়া প্রমুখ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে