ইসিতে ‘উত্তপ্ত’ বৈঠকে কী হয়েছিল, খুলে বললেন মান্না

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৩৪ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

তফসিল পেছানোর আবেদন নিয়ে গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনে যায় ঐক্যফ্রন্টের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) সব কমিশনারের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক হয়। বৈঠকে সিইসির সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এই বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেছেন মান্না নিজেই।

নিজের ফেসবুক পেজে ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে আমার সাথে কমিশনের সদস্যদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আমি এখানে তুলে ধরছি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির একটি ছিল-আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা। আমি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি ঘটনা তুলে ধরেছিলাম।

২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে ইভিএম মেশিন পরীক্ষা করে দেখেছিলেন যে, তার ৪টি বোতামের যে কোনোটিতে চাপ দিলেই নৌকা মার্কার ছবি আসে। এই ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আমি বলেছিলাম-ইভিএমে মেনিপুলেশন করা যায়। তখন নির্বাচন কমিশন ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন আমার বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেন। একপর্যায়ে সিইসি বলেন, মুখে বড় বড় কথা বললেই হবে না।

আমি ঐ বৈঠকে বলেছি এবং এখনও বলছি, আমি যা বলেছি তা সত্যি। জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। এক মাসের কিছু সময় আগে আমেরিকার বোস্টন টেকনোলজি কনফারেন্সে কম্পিউটার বিজ্ঞানী এলেক্স হেলডারম্যান প্রমাণ করে দেখিয়েছেন আমেরিকার বিদ্যমান ইভিএম হ্যাক করে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা যায় কোনো রকম প্রমাণ না রেখেই।

দিল্লি পার্লামেন্টে আম আদমি পার্টির এমএলএ সৌরভ ভরাদ্বাজ এটি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। ইউটিউবে একটু খুঁজেই যে কেউ তা দেখে নিতে পারবেন। ইভিএম মেনিপুলেট করা যায়- এ কথা আমি আবারও বলছি।’

গতকালে বৈঠক সম্পর্কে ইসি সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বৈঠকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি কোনো অনাস্থার কথা বলতে আসেননি। তবে এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা নেই।

জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, আপনারা তো বড় বড় কথা বলেন। আপনাদের ওপরও তো জনগণের আস্থা নেই। সিইসির এই বক্তব্যের পর মান্না বলেন, মাইন্ড ইওর ল্যাঙ্গুয়েজ।

বৈঠকের এক পর্যায়ে ঐক্যফ্রন্টের অপর প্রতিনিধি সুলতান মনসুর বলেন,সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখা গেছে এক দলের নেতা আরেক জেলায় জেলে। এভাবে চলতে পারে না। তিনি ইসিকে সতর্ক করে বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর করা যাবে না।

বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, উত্তপ্ত কথা নয়। গলার আওয়াজটা ওই রকম ছিল, ওনারা রাজনীতিবিদ। ওভাবেই কথা বলতে অভ্যস্ত।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে