পল্লবীতে আনসার আল ইসলামের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর পল্লবী থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

গতকাল বুধবার রাজধানীর পল্লবী থানধীন ডিওএইচএস’র ৯ নম্বর রোডের ৬৪৪ নম্বর বাড়ির পঞ্চমতলা থেকে স্মল কাইন্ডনেস অব বাংলাদেশ (এসকেবি) নামের একটি এনজিও অফিস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান

এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ টাকা, একটি ল্যাপটপ, আটটি সিপিইউ, আটটি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও ১০টি মুঠোফোন উদ্ধার করে সিটিটিসি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. সাফ ওয়ানুর রহমান (৩৪), সুলতান মাহমুদ (২৫), মো. নজরুল ইসলাম (৩৮), মো. আবু তাহের (৩৬), মো. ইলিয়াস মৃধা (৩০), মো. আশরাফুল আলম (২৪), হাসনাইন (৩০) ও মো. কামরুল (২৮)।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এসকেবি নামক ওই প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার আল ইসলামের মতাদর্শের অনুসারীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এনজিওভিত্তিক হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্কের ছদ্মাবরণে এনজিওটির সদস্যরা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে উগ্রবাদের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। গত আগস্টে এনজিও ব্যুরো কর্তৃক জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যপরিচালনার অপরাধে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এই এনজিওটির কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।’

ডিসি আরও বলেন, ‘এনজিওটি পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিপাইন, কানাডা, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ইসলামভিত্তিক সংস্থা থেকে অনুদান সংগ্রহ করে থাকে। এ ছাড়া দেশে ও বিদেশে হিসাব বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে। পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন এসকেবি’র মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে নির্বিঘ্নে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আল খিদমত ফাউন্ডেশন জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও লস্কর-ই-তইয়েবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। গ্রেপ্তারকৃতরাও ওই এনজিওটির সমর্থনপুষ্ট। তারা এনজিওটির (এসকেবি) কার্যক্রমের আড়ালে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভিন্ন কৌশলে সরকারবিরোধী প্রচারণা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও রোহিঙ্গাদের প্ররোচিত করে তারা দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় আনসার-আল-ইসলামের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করে।  এছাড়া তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে তাদের সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। সদস্য সংগ্রহ করে নাশকতামূলক কাজের মাধ্যমে সরকারকে অকার্যকর করা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে