ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ খরচ ১০ টাকা

প্রকাশ | ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০১:০৪ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৬

আসাদুর রহমান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন ভোটারের পেছনে সর্বোচ্চ ১০ টাকা খরচ করা যাবে। এমন বিধান রেখে বৃহস্পতিবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটার সংখ্যা যতই হোক না কেন, প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকার মধ্যেই থাকতে হবে। নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হলে দলের অনুদানও এর মধ্যে যুক্ত হবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ আসনের ভোটার সংখ্যা চূড়ান্ত করেছে ইসি। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪২ লাখ। এতে দেখা যায়, আসন প্রতি গড় ভোটার ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন। সবচেয়ে বেশি ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন ভোটার রয়েছে ঢাকা-১৯ আসনে। আর সবচেয়ে কম ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, এবার প্রার্থীরা ভোটের প্রচারে ব্যয় করতে পারবেন সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা। এই হিসাবে সবচেয়ে কম ভোটারের আসনে প্রার্থীরা ভোটার প্রতি ব্যয় করতে পারবেন প্রায় ১৪ টাকা। আবার সবচেয়ে বেশি ভোটারের এলাকায় প্রার্থী ব্যয় করতে পারবেন প্রার্থী প্রতি মাত্র ৩ টাকা। তবে ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয়ের সুযোগ রাখা হলেও সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা গড়ে ২৫ লাখ টাকার মধ্যেই থাকতে হবে।

নবম সংসদ নির্বাচনের সময় প্রার্থীর ব্যয়সীমা ছিল ১৫ লাখ টাকা। সে সময় ৮ কোটি ১০ লাখ ভোটারের বিপরীতে প্রতি আসনে এ নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। ভোটার প্রতি ব্যয়সীমা ছিল গড়ে ৫ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয়সীমা বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়। তখন ভোটার ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ। এই হিসাব ধরে নির্বাচন কমিশন ভোটার পিছু ব্যয়সীমা দিয়েছিল ৮ টাকা।

নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীর এজেন্ট ওই টাকা খরচ করতে পারবেন। এ ছাড়া প্রার্থীর কাছ থেকে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কেউ মনোহরী দ্রুব্য, ডাকটিকেট কেনা, টেলিফোন বিল ও অন্যান্য ছোটখাটো খাতে অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। অবশ্য ভোটের মাঠে আসলে কত টাকা খরচ হচ্ছে তা নিরূপণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রার্থীরা বাস্তবে অনেক বেশি টাকা ব্যয় করেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশন শুধু ব্যয়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েই খালাস। প্রকৃত ব্যয় কত হচ্ছে তা তদারকির সঠিক কর্মপন্থা ইসি রাখেনি।