যুক্তরাজ্যে স্পিকার

শুধু নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৩ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

শুধু নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, বরং সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে সমাজে ইতিবাচক রূপান্তর ও পরিবর্তন আনতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সে ‘এন্ডিং ভায়োলেন্স এগেইনস্ট ওমেন অ্যান্ড গার্ল’ শীর্ষক সেশনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্পিকার বলেন, ‘শুধু নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, বরং সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে সমাজে ইতিবাচক রুপান্তর ও পরিবর্তন আনতে হবে। এর মাধ্যমে সূচিত হবে এক নব অধ্যায়ের।’

এ সময় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি নারীদের ভোটাধিকারের গৌরবময় শতবর্ষ উদযাপন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, তাদের ত্যাগ ও অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

স্পিকার বলেন, ‘সেই নারীই ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত, যে নারী সচেতনতার সঙ্গে নিজেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্পৃক্ত করবে, নারী সমাজকে জাগ্রত করতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সোচ্চার হবে এবং সচেষ্ট থাকবে। এভাবে যেকোনো নারী সকল বাধা ও শৃঙ্খলসীমাকে অতিক্রম করে নব দিগন্তের সূচনা করতে পারে।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে চলছে। সঙ্গে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নারীদের দক্ষ করে গড়ে তোলতে শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি তৃণমূলের নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতাদের কর্মপন্থা নির্ধারণের ওপর জোর তাগিদ দেন।

ড. শিরীন শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ নারী উন্নয়নে, সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়ন অনুসরণযোগ্য। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ৩০০ জন। এছাড়া ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যসহ ২৩ জন সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। যা মোট সংসদ সদস্যের ২২ শতাংশ। নারী সংসদ সদস্যদের এ সম্পৃক্ততা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ প্রদানসহ ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্ব বিকাশেও ভূমিকা রাখছে। নারী সংসদ সদস্যরা নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে।’

স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার পাসপোর্টে বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নামও অর্ন্তভুক্ত করেছে। মায়েদের স্ববেতনে ছয় মাস মাতৃকালীন ছুটি, ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।’

অনুষ্ঠানে ‘ওমেন এমপি’স অব দ্যা ওয়াল্ড’ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ৮৬টি দেশের ১২০ জন নারী সংসদ সদস্য অংশ নেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে