sara

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু কাল

প্রথম ধাপে ২ হাজার ২৬০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

  উখিয়া প্রতিনিধি

১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪১ | আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।  প্রথম ধাপে ৪৮৫ পরিবারের দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার।  উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্প হতে ১৫ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন ১৫০ জন করে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্টদূত উ লুইন বলেন, ‘অাগামী ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রথম ব্যাচে ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা ১৫ দিনে মিয়ানমারে ফিরে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ১৫০ জন করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।  নৌপথে তারা মিয়ানমার ফিরে যাবে। তাদের প্রতিদিন ফিরে যাওয়ার সময় নির্ভর করবে জোয়ার-ভাটার উপর।’

এর আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের এই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। সে অনুযায়ী শুরুতে টেকনাফের কেরুনতলি ঘাটের ট্রানজিট পয়েন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যে ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে ঠিক অনুরূপ প্রস্তুতি মিয়ানামারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।  সুতরাং নির্ধারিত সময়ে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। ‘

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা অাবুল ফয়েস (৫৫) ও অাবুল কালাম( ৪৫) বলেন, ‘নিজ দেশে মরতে পারলে খুশি হবো। অাত্মা শান্তি পাবে।  তবে মিয়ানমারে অাবারও নির্যাতনের অাশঙ্কা রয়েছে। ’

একই ব্লকের মসজিদের ইমাম মৌলভী নুরুল অালম বলেন, ‘স্বদেশে ফিরতে রাজি অাছি।  অামাদের সহায় সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে।  নাগরিকত্ব দিতে হবে। ’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসনের জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোকে দুইটি তালিকা দেওয়া হয়েছে।  প্রথম তালিকায় ৮ হাজার ২২ জন ও দ্বিতীয় তালিকায় ২২ হাজার ২২৪ জন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নাম রয়েছে।  মিয়ানমার থেকে জানানো হয়েছে মিয়ানমারের ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য ভারত সরকার ২৮৫টি বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে।  অার চীন সরকার এক হাজার বাড়ির কাঠামো পাঠিয়েছে।

সামরিক সেনাদের নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে জীবন বাচাঁতে ২০১৭ সালের ২৫ অাগস্ট থেকে উখিয়া-টেকনাফ ও বান্দরবানের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার ঢল নামে।  প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অাশ্রয় নেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে