sara

পিইসির পরীক্ষা দিল মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী

  ধর্মপাশা প্রতিনিধি

১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২২:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে চারটি বিদ্যালয়ের ২০ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে। যারা উপজেলার রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের আনন্দ স্কুলের পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।

আজ সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান এক অভিযানে তাদের শনাক্ত করেন। ভুয়া পরীক্ষার্থীরা স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত।

তবে এসব ভুয়া পরীক্ষার্থীরা পরবর্তী পরীক্ষায় যেন আর অংশগ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

ইউএনও আরও জানান, উপজেলার ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পিইসি পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই বহিরাগত শিক্ষার্থীদের দিয়ে আনন্দ স্কুলের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ানো হচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে সোমাবর দুপুরে ইউএনও পরীক্ষা চলার সময় দুটি কেন্দ্রের দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আনন্দ স্কুলের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র জব্দ করার নির্দেশ দেন।

পরে ইউএনও পৃথক পৃথকভাবে দুটি কেন্দ্রে গিয়ে জব্দকৃত প্রবেশপত্র যাচাই বাছাই করে ফাতেমানগর আনন্দ স্কুলের সাত জন, আতকাপাড়া আনন্দ স্কুলের দু’জন, ধর্মপাশা উত্তরপাড়া আনন্দ স্কুলের এক জন ও মাটিকাটা আনন্দ স্কুলের ১০ জনসহ মোট ২০ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন।

ভুয়া শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় থেকে তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা করে পরিশোধ করা হবে জানানো হয়েছিল। প্রথম পরীক্ষার দিন অনেকেই ১০০ টাকা করে পেয়েছিল বলে জানায় তারা।

এ বিষযে ফাতেমানগর আনন্দ স্কুলের শিক্ষক খাদিজা আক্তার ও আতকাপড়া আনন্দ স্কুলের শিক্ষক পপি আক্তার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী যাচাই বাছাই করার সময় মাটিকাটা আনন্দ স্কুলের শিক্ষক হিরামনি ইউএনওকে জানান, প্রকল্পের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটের (টিসি) নির্দেশে এমনটি করা হয়েছে।

এদিকে রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের টিসি সোহেলী আক্তার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ভুয়া পরীক্ষার্থী শনাক্ত করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কোনো প্রকার অনিয়মের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানিয়েছেন আনন্দ স্কুলের টিসির নির্দেশে তারা এমনটি করেছেন। ২০ জন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা আনন্দ স্কুলের পড়েনি এবং অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।’

তবে এ বিষয়ে টিসি এবং অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে